চক্রান্তের অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ পিঙ্কি

Update: November 15, 2012 21:48 IST

নিজের হেনস্থার প্রতিকার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করবেন বলে ঠিক করেছেন পিঙ্কি প্রামাণিক। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি সুবিচার চাইবেন বলেও পিঙ্কি জানান। পাশাপাশি দাবি করেছেন তাঁর পদক কেড়ে নেওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। পিঙ্কির অভিযোগ তাঁকে হেনস্তা করতেই পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চার্জশিট পেশ করেছে। যদিও বিধাননগর কমিশনারেটের দাবি, পিঙ্কির মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং চার মাস ধরে তদন্ত চালিয়ে উঠে আসা সাক্ষ্য প্রমাণের উপর ভিত্তি করেই চার্জশিটে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে৷ পুলিশ সূত্রে খবর, তাদের দাবি মতো মেডিক্যাল রিপোর্টে পিঙ্কিকে জিনগতভাবে মহিলা নয় বলেই চিহ্নিত করা হয়েছে৷ তার ব্যাখ্যাও দেওয়া রয়েছে রিপোর্টে৷ অভিযোগকারিণী ও তাঁর ৫ বছরের শিশুকন্যা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে গোপন জবানবন্দিতেও অভিযোগের সত্যতার কথাই জানিয়েছেন৷

প্রসঙ্গত, এশিয়াডে সোনা জয়ী `মহিলা` অ্যাথলিট পিঙ্কি প্রামাণিকের বিরুদ্ধে চলতি বছরের জুনে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন এক মহিলা। অভিযোগ ছিল, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে সহবাস করেছেন পিঙ্কি। পিঙ্কিকে পুরুষ বলে দাবি করে ওই মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণেরও অভিযোগ এনেছিলেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় পিঙ্কি প্রামাণিককে। আদালত তাঁকে ২৫ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ নেয়।

লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য তিন দফায় মেডিক্যাল পরীক্ষা হয় তাঁর। এসএসকেএম-এর শেষ শারীরিক পরীক্ষার সময় সাত সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডও গঠিত হয়। পরে মেডিক্যাল রিপোর্টে প্রমাণিত হয় পিঙ্কি আসলে পুরুষ। তার ভিত্তিতেই আজ বারাসত আদালতে পিঙ্কির বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিস। চার্জশিটে পিঙ্কির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, সম্পত্তি হাতানো সহ মোট ৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সেগুলি হল ৪১৭ (প্রতারণা), ৩২৫ (মারধর), ৪৯৩ (বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস), ৩৭৬ (ধর্ষণ) এবং ৫০৬ (হুমকি)। শেষ শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়, পিঙ্কি পুরুষ এবং সে সহবাসে সক্ষম। চার্জশিটের সঙ্গে এই মেডিক্যাল রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়ে।

Post Your Comment

Total Comments:1

9498006151 8144664242

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।