ভারত-চিন 'ভাল বন্ধু': মন্তব্য লির

Last Updated: Monday, May 20, 2013 - 08:39

চিনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের ভারত সফরকে সম্মান জানাতে দু'দেশের সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।  ভারত-চিন দু'জনেই 'কৌশলগত অংশীদার ও ভাল বন্ধু' বলেই মত চিনা প্রধানমন্ত্রীর।  
সোমবার হায়দরাবাদে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে মনমোহন সিং বলেন, "লিএর ভারত সফর আমাদের কাছে সম্মানের। তাঁকে কাছ থেকে জানতে পারে ভাল লাগল।  গতকালের বৈঠকে দু'জনের মধ্যে আশু আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে ভারত পাক সম্পর্কে যে খানিকটা ফাটল ধরেছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন চিনা প্রধানমন্ত্রী।
কৌশলগত পারস্পরিক বিশ্বাস ছাড়া ভারত ও চিনের মধ্যে শান্তি এবং আঞ্চলিক স্থায়িত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। আজ রাষ্ট্রপতি ভবনে গার্ড অফ অনার পাওয়ার পর এমনটাই মন্তব্য করেছেন চিনের মুখ্যমন্ত্রী লি কেকিয়াং।
আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শুরুর আগে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে জানান ভারত-চিনের যৌথ উদ্যোগ এবং যুগপত উন্নতি ছাড়া পৃথিবীর উন্নয়নই সম্ভব নয়।
গতকালের পর আজ ফের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ভারত সফররত চিনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ এই বৈঠক হবে। বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ প্রকাশিত হবে যৌথ বিবৃতি।
তার আগে সকালে রাজঘাটে গিয়ে গান্ধীজির স্মৃতিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান লি কেকিয়াং। সেখান থেকে তিনি যান রাষ্ট্রপতি ভবনে। সেখানে চিনের নব-নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার জানানো হয়।
তারপর হায়দরাবাদ হাউসে বিদেশমন্ত্রী সলমন খুরশিদের সঙ্গে দেখা করেন  লি কেকিয়াং। দু'জনের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয়। চিনের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেছেন বিদেশমন্ত্রী সলমন খুরশিদ। সেখানে মনমোহন সিং সরকার মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হবেন তিনি।
বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ লোকসভার বিরোধী দলনেত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে দেকা করবেন লি কেকিয়াং। সাড়ে চারটে নাগাদ ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীর তাঁর দেখা করার কথা। বিকেল সোয়া পাঁচটা নাগাদ চিনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি। মঙ্গলবার সকালে তাজ হোটেলে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার পর মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন লি কেকিয়াং। বাণিজ্যনগরীতে  একাধিক বণিক সভার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
লাদাখ সীমান্তে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির অনুপ্রবেশের ঘটনা ভালো চোখে দেখছে না দিল্লি। এরফলে দু-দেশের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে সীমান্তে যে শান্তি বজায় রাখার প্রক্রিয়া চলছে, তাতে প্রভাব পড়বে। ভারত সফররত চিনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংকে এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।
রবিবার তিন দিনের ভারত সফরে দিল্লিতে এসেছেন চিনের নব-নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ই আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন বিদেশসচিব রঞ্জন মাথাই সহ আরও অনেকে। বিমানবন্দর থেকে লি কেকিয়াংয়ের পঁয়ত্রি গাড়ির কনভয় সোজা চলে যায় হোটেলে। রাতে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তাঁর বাসভভনে যান লি কেকিয়াং। নৈশভোজের আগে, বৈঠকে বসেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। প্রায় আধ ঘণ্টার বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল লাদাখ সীমান্তে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির অনুপ্রবেশ।
এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি ভারতে অনুপ্রবেশ করে লাদাখের দেসাং উপত্যকায় বেশকয়েকটি সেনা ছাঁউনি তৈরি করেছিল পিএলও। ভারত পাল্টা ঘাঁটি তৈরি করায় দিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছিল। পরে দু'দেশের মধ্যস্থতায় সেনা প্রত্যাহার করে বেজিং। দিল্লি যে বিষয়টি ভালো ভাবে নেয়নি, রবিবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে চিনের প্রধানমন্ত্রীকে তা আকারে-ইঙ্গিতে অবশ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন মনমোহন সিং। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সুসম্পর্কে প্রভাব পড়বে।
জবাবে চিনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংও আশ্বাস দিয়েছেন, বেজিংও চায় দুই দেশের সম্পর্কে যেন চিড় না ধরে। বৈঠকে দলাই লামার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন চিনের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভারতে লুকিয়ে থাকা তিব্বতিদের চিনে অশান্তি ছড়াতে ইন্ধন দিচ্ছেন খোদ দলাই লামা। সেদিকে নজর দেওয়ার জন্য মনমোহন সিংকে অনুরোধ জানান লি। এছাড়া দুদেশের নদী সমস্যা ও বাণিজ্য নিয়েও দুই প্রধানমন্ত্রীর  মধ্যে কথা হয়। মার্চ মাসে চিনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর এটাই লি কেকিয়াংয়ের প্রথম বিদেশসফর। তাঁর সঙ্গে এসেছেন একশোজনের একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল। যার মধ্যে রয়েছেন চিনের সেরা কোম্পানিগুলির প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার তাঁদের নিয়ে বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে যাবেন লি কেকিয়াং। 



First Published: Monday, May 20, 2013 - 16:42


comments powered by Disqus