ক্যাগের অভিযোগ ভিত্তিহীন, সংসদে বিবৃতি প্রধানমন্ত্রীর

Update: August 27, 2012 11:26 IST

কয়লা ব্লক বন্টন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে কোনঠাসা প্রধানমন্ত্রী আজ পাল্টা চ্যালেঞ্জের রাস্তায় গেলেন। সংসদের বিবৃতিতে ক্যাগ রিপোর্টের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তোলেন মনমোহন সিং। তিনি বলেন, ক্যাগের পর্যবেক্ষণ প্রশ্নাতীত নয়। রিপোর্টে ওঠা দুর্নীতির যাবতীয় অভিযোগকেও খারিজ করে দেন তিনি। বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলের মাঝেও বিবৃতি থামাননি মনমোহন সিং। তিনি বলেন, সংসদে বিরোধীরা তাঁকে বলারই সুযোগ দিচ্ছে না। রীতিমতো আক্রমণাত্মক সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটিতেও ক্যাগ রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে। বিরোধীদের প্রবল চাপের জেরে সংসদের দু'কক্ষই সারাদিনের মতো মুলতুবী করতে বাধ্য হন আধ্যক্ষ।


ক্যাগ রিপোর্টে কয়লা দুর্নীতি সামনে আসার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করতে থাকে বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করে বিজেপি। এই ইস্যুতেই গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল থেকেছে সংসদ। বাদল অধিবেশনের বাকি দিনগুলি সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্যই সম্ভবত প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। কয়লা দুর্নীতি ইস্যুতে পরবর্তী অবস্থান স্থির করতে আজ বৈঠকে বসার কথা ছিল এনডিএর। কিন্তু আকালি দল ও জেডিইউএর বিরোধিতায় তাদের অভ্যন্তরীণ মতভেদের কারণে এনডিএর বৈঠক হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফার দাবি তোলার আগে সংসদে আলোচনায় বসতে চায় আকালি দল ও জেডিইউ। তবে আজ বৈঠকে বসে বিজেপি। 

পরিস্থিতি ক্রমশ অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে। ভেস্তে গেছে স্পিকারের ডাকা সর্বদল বৈঠক। ভেস্তে গেছে প্রধান বিরোধী জোট এনডিএ-র বৈঠকও। প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফার দাবি ইস্যুতে ফাটল দেখা দিয়েছে এনডিএ শিবিরে। বিরোধী শিবিরের বেশ কয়েকটি শরিক দল চাইছে প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফার দাবি তোলার আগে সংসদে আলোচনা হোক। কিন্তু ইস্তফার দাবিতে অনড় বিজেপি। মনে করা হচ্ছে শীতকালীন অধিবেশনের মতই ভেস্তে  যেতে চলেছে সংসদের বাদল অধিবেশনও।









Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।