বিচারের দাবিতে প্রতিবাদে লোবা

Update: January 11, 2013 23:10 IST

পুলিস বলছে, গুলি চলেনি লোবায়। হাইকোর্টে একথা জানিয়ে রিপোর্টও জমা দেওয়া হয়েছে জেলা পুলিসের পক্ষ থেকে। অথচ স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন। এর প্রতিবাদে শুক্রবার বীরভূমের এসপির অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান লোবার বাসিন্দারা। অন্যদিকে, হাইকোর্টে এ দিন লোবা-মামলার শুনানি ছিল। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণসহ রাজ্য সরকারকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

লোবার বাসিন্দাদের এই বিক্ষোভ পুলিস-প্রশাসনের বিরুদ্ধে। লোবার ঘটনায় হাইকোর্টে পেশ হওয়া রিপোর্টে গুলি চলেনি বলে জানিয়েছেন বীরভূমের পুলিস সুপার। আর এতেই ক্ষুব্ধ স্থানীয় মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, আদালতে ভুল তথ্য দিয়েছে পুলিস।
 
 বীরভূমের এসপির অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ চলে বেশ খানিকক্ষণ। ভবিষ্যতে আরও বড়সড় আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের এই বিক্ষোভকে অবশ্য আমল দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। এই বিক্ষোভকে নাটক বলে কটাক্ষ করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।   
 
অন্যদিকে, শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য ছিল, ঘটনায় পাঁচ জনের দেহে গুলির চিহ্ন মিলেছে। যাতে গুলি চালনার ঘটনা সামনে না আসে সেজন্য হাসপাতালের চিকিত্‍সক ও নার্সদের শাসক দলের তরফে চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এরপরই লোবার ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দিয়ে রাজ্য সরকারকে পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। তিন সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে এই মর্মে হলফনাম জমা দিতে হবে।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।