টেস্টে অবসরের গ্রহে ঢুকছেন পন্টিং

Update: November 29, 2012 10:48 IST

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট একটা অধ্যায়ের শেষ হতে চলেছে। রান সংখ্যার বিচারে সর্বকালের সেরা অসি ব্যাটসম্যানকে টেস্টে আর খেলতে দেখা যাবে না। দীর্ঘ ১৭ বছরের টেস্ট কেরিয়ারে ইতি টানতে চলেছেন রিকি পন্টিং। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আগামীকাল পারথে শুরু হতে চলা সিরিজের তৃতীয় খেলাটাই রিকি পন্টিংয়ের জীবনের শেষ টেস্ট ম্যাচ হতে চলেছে। এমন কথাই আজ ঘোষণা করে বিশ্ব ক্রিকেটকে চমকে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সফল প্রাক্তন এই অধিনায়ক। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ওয়ানডে থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করে ছিলেন। যার মানে দাঁড়াল পারথ টেস্টের পর আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পন্টিংকে খেলতে দেখা যাবে না।

১৯৯৫ এই পারথেই টেস্ট কেরিয়ার শুরু করেছিলেন প্যান্টার। সেই পারথেই ইতি টেনে বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে চলেছেন। তবে এই অবসরের পিছনে অসি নির্বাচকদের হাত কতটা আছে তা নিয়ে জল্পনা চলছে। পন্টিং অবশ্য বলছেন, নির্বাচকদের চাপে নয় তিনি নিছকই ব্যক্তিগত কারণে অবসর নিচ্ছেন। অবশ্য এর আগে পন্টিং বলেছিলেন, তিনি আগামী বছর অ্যাসেজ সিরিজ খেলে অবসর নিতে চান। কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম এতটাই খারাপ যে অবসরের গ্রহে তাঁকে ঢুকে পড়তেই হল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চলতি সিরিজে দুটো টেস্টে মিলিয়ে করেছেন মাত্র ৩৬ রান। তবে এটাও ঠিক এ বছরই শুরুতে ভারতের বিরুদ্ধে ২৮১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। তখনও বোঝা যায়নি বছরের শেষে এভাবে অবসর নিতে হবে অসি যোদ্ধাকে। টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্বে সর্বকালের সেরা রান সংগ্রহকারীর তালিকায় সচিন তেন্ডুলকরের পরেই আছেন রিকি পন্টিং। শতরান সংখ্যার বিচার তিনি তৃতীয়। আর অধিনায়ক পন্টিং তো সফলতার সব মাইলস্টোন ছুঁয়ে ফেলেছেন। তবে এসবের শুকনো পরিসংখ্যানের বাইরেও পন্টিংয়ের আলাদা একটা সুনাম আছে। তিন নম্বরে নেমে অনেক ম্যাচে জয়-পরাজয়ের ফারাক গড়ে দিয়েছেন।

টেস্টে রিকি পন্টিং
-
টেস্ট-- ১৬৭, ইনিংস-- ২৮৫, রান-- ১৩৩৬৬, সর্বোচ্চ রান-- ২৫৭, গড়-- ৫৪.৬০, শতরান-- ৪১, অর্ধ শতরান-- ৬২





Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।