পন্টি চাড্ডার অন্ত্যোষ্টি আটকাল পুলিস, নির্দেশ দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের

Update: November 19, 2012 12:06 IST

নাটকীয় মোড়ের সঙ্গেই পন্টি চাড্ডা খুনের রহস্য আরও ঘনীভূত হল। রবিবার সন্ধেয় পুলিসের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে যায় নিহত নিহত মদ ব্যবসায়ী পন্টি চাড্ডার অন্ত্যেষ্টি। শুরুর ঠিক আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া আটকে দেয় দিল্লি পুলিস। দেহে ঢুকে থাকা আরও তিনটি বুলেট খুঁজে বার করতেই দ্বিতীয়বারের জন্য ময়না তদন্ত করা হয়। পুলিসের দাবি অনুযায়ী, এইমসের নামী চিকিত্‍সকেরাও প্রথমবারে সেই গুলি তিনটি দেহ থেকে বার করতে পারেননি। 

শনিবার পন্টির দেহে মোট ১৫টি গুলি লাগে। রবিবার সন্ধেয় প্রায় ঘণ্টা খানেক ধরে বাকি বুলেটগুলি খুঁজে বার করেন চিকিত্‍সকেরা। এরফলে অন্ত্যেষ্টির কাজ প্রায় ৪ ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। শনিবার সন্ধেতে নিজেদের ফার্ম হাউসে একে অপরের গুলিতে প্রাণ হারান ভারতের লিকার ব্যারন পন্টি ওরফে গুরদীপ চাড্ডা ও তাঁর ভাই হরদীপ চাড্ডা। ঠিক কোন পরিস্থিতিতে তাঁরা পরস্পরকে গুলিবিদ্ধ করে তার তদন্তে নেমে দুজনেরই ফোনের কল রেকর্ডস খতিয়ে দেখছে পুলিস।

প্রাথমিক পর্যায়ের তদন্তের পর পুলিসের অনুমান বেশ কিছুদিন ধরেই হরদীপকে তাঁদের ফার্মহাউজ থেকে উত্খাত করার পরিকল্পনা করছিলেন পন্টি। সেই অনুযায়ী গতকাল সকালে পন্টির দলের লোকজন তাঁদের বিতর্কিত ফার্মহাউসে ঢুকে হরদীপের মালপত্র বাইরে বের করে দরজা লক করে দেয়। হরদীপ সেইসময় সেখানে ছিলেন না। নয়ডার একটি মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। এর কিছু সময় পর দুপুরের আগেই পন্টি ইউপি মাইনরিটি কমিশনের সদস্য তাঁর এক বন্ধুকে ফোন করে বলেন তিনি একবার ফার্মহাউস টহল দিতে চান। ইতিমধ্যেই পন্টির কাণ্ড কারখানার খবর পেয়ে মিটিং মাঝপথেই শেষ করে ফার্মহাউসে ছুটে আসেন হরদীপ।

পন্টি, তাঁর বন্ধু ও হরদীপ প্রায় একই সময় ফার্মহাউসে পৌঁছন বলে অনুমান পুলিসের। পাহারায় থাকা পন্টির লোকেরা দরজা খুলে দিলে হরদীপই প্রথম গুলি চালান। প্রথমে পন্টির গার্ড নরেন্দ্র ও পরে পন্টির গায়ে গুলি লাগে। এরপর উভয় পক্ষই গুলি চালাতে থাকে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু হয় দুজনেরই। এর আগে গত ৫ অক্টোবরও চাড্ডাদের মোরাদাবাদের বাড়িতে গুলি চলার খবর মিলেছিল।

মৃত্যুর মতোই ঠিক হিন্দি ছবির স্ক্রিপ্ট মেনেই ছিল চাড্ডা ভাইদের জীবন। দেশি মদের দোকানের সামনে বাবার কুলওয়ন্ত সিং চাড্ডার সঙ্গে নোনতা খাবার বিক্রি করে ব্যবসায় হাতে খড়ি। চালচুলোর হিসেব ছিল না তখন। জীবন নাটকীয় মোড় নেয় যখন উত্তর প্রদেশের তৎকালীন মুলায়ম সিং যাদব সরকারের কাছ থেকে একটি মদের দোকানের লাইসেন্স বের করেন কুলওয়ন্ত। তার পর থেকে সারা উত্তর প্রদেশে একচেটিয়া মদের ব্যবসা করে চাড্ডা পরিবার। তবে মদের ব্যবসায় থেকে থাকেননি এঁরা। চিনি, পেপোর মিল, মাল্টিপ্লেক্স, রিয়ল এস্টেট থেকে ছবি প্রযোজনা। পুলিস সূত্রে খবর, পন্টি, হরদীপ ও রাজিন্দর ৩ ভাইয়ের মিলিত সম্পত্তির পরিমান প্রায় ৬ হাজার কোটি।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।