প্রদীপ তা হত্যাকাণ্ড: সিআইডির ভূমিকার সমালোচনা হাই কোর্টে

Update: January 18, 2013 18:12 IST

বর্ধমানে তৃণমূলের হামলায় নিহত সিপিআইএম নেতা প্রদীপ তা-র পরিবারের নিরাপত্তায় উপযুক্ত ব্যবস্থা  নিতে জেলা পুলিস সুপারকে নির্দেশ দিল হাইকোর্ট।  মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নিম্ন আদালতকেও নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি অরুণ মিশ্র এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ।  পুলিস এবং সিআইডির ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছে আদালত।   

গত বছর বাইশে ফেব্রুয়ারি দেওয়ানদিঘিতে খুন হন সিপিআইএম নেতা প্রদীপ তা এবং কমল গায়েন। এ ঘটনায় তিনজনকে ধরলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিস। অভিযোগ, এরপর থেকেই প্রদীপ তায়ের পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে বাইরে বেরোলেই স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল কর্মী তাঁদের পিছু নিচ্ছে।  

প্রদীপ তা হত্যায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে একটি জনস্বার্থ মামলা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। ওই মামলার শুনানি চলার সময় নিরাপত্তার আর্জি জানায় প্রদীপ তার পরিজনরা। পরিজনদের বক্তব্য শোনার পরই হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, প্রদীপ তায়ের পরিবার তো বটেই এই মামলায় অন্য সাক্ষীদেরও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে জেলার পুলিস সুপারকে।       

সিআইডি ঘটনার তদন্তে গেলেও তাঁদের বক্তব্য ভাল করে শোনা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে প্রদীপ তায়ের পরিবার। তাই সিআইডি রিপোর্ট নিয়েও অসন্তুষ্ট কলকাতা হাইকোর্ট সিআরপিসির ১৬৪ ধারায় প্রদীপ তায়ের স্ত্রী এবং মেয়ের বক্তব্য নিম্ন আদালতকে রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছে।

জেলা পুলিসের ভূমিকা নিয়েও অসন্তুষ্ট আদালত। এ ঘটনায় তিনজনকে ধরা হলেও কেন অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হল, তা নিয়েও তদন্ত করতে ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।