সংস্কারের পথেই হাঁটবে কেন্দ্র, ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

Update: April 25, 2012 20:48 IST

জোট রাজনীতির বাধ্যবাধকতার কারণেই বড় ধরনের আর্থিক সংস্কার করা যাচ্ছে না বলে গত সপ্তাহেই মন্তব্য করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কৌশিক বসু। যদিও বুধবার সংস্কারের পথেই হাঁটার ব্যাপারেই সওয়াল করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়।

এদিন প্রণববাবু জানান, চলতি বাজেট অধিবেশনে আর্থিক সংস্কার সংক্রান্ত বিল আনতে বদ্ধপরিকর সরকার। বস্তুত, ভারতীয় অর্থনীতি নিয়ে `স্ট্যান্ডডার্ড ওন্ড পুওর`-এর রেটিং প্রকাশিত হওয়ার পরই আর্থিক সংস্কারের পক্ষে আরও একবার সওয়াল করলেন অর্থমন্ত্রী। এর আগেও সংস্কারের পক্ষে বারবার সওয়াল করেছেন প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী। কিন্তু শরিকি বাধ্যবাধকতায় বার বার থমকে গেছে সংস্কার প্রক্রিয়া। বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে ব্যাঙ্ক, বিমা ক্ষেত্রে সংস্কারের পথে এগোতে পারেনি কেন্দ্র। দেশের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতির স্বার্থে সংস্কার প্রক্রিয়া জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কৌশিক বসু। এই অবস্থায় সরকারের অস্বস্তি বাড়াল দেশের অর্থনীতি নিয়ে `স্ট্যান্ডার্ড এন্ড পুওর`-এর রেটিং। অর্থনীতির আন্তর্জাতিক মান নির্ধারক সংস্থার এই রেটিং বলছে, ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীলতা হারাচ্ছে। তাদের যুক্তি চলতি বছরে আর্থিক বিকাশের হার ৭-এর পরিবর্তে ৫.৩-এ দাঁড়াবে। রাজকোষ ঘাটতির পরিমাণও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে। সবচেয়ে বড় কথা, আর্থিক সংস্কার থমকে যাওয়ার ফলেই এই বিপত্তি দেখা দিয়েছে বলেও জানিয়েছে `স্ট্যান্ডার্ড ওন্ড পুওর`।

যদিও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর দাবি এ বিষয়ে এখনই আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কারণ নেই। তবে প্রণববাবু মুখে বললেও জোটরাজনীতির বাধ্যবাধ্যকতা পেরিয়ে আদৌ আর্থিক সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে কতটা এগোতে পারবে, তা নিয়েই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আর `স্ট্যান্ডার্ড এন্ড পুওর`-এর আশঙ্কা যদি সত্যি হয়, তা হলে দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল।  

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।