রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়

Update: July 25, 2012 11:59 IST

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় দেশের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। চিরাচরিত প্রথা মেনে এদিন সংসদের সেন্ট্রাল হলে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সারোষ হোমি কাপাডিয়া।

শপথগ্রহণের আগে এদিন সকালে দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানাতে গেলেন তিনি। শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, জওহরলাল নেহরু ও লালবাহাদুর শাস্ত্রীর সমাধিক্ষেত্র- শক্তিস্থল, বীরভূমি, শান্তিবন ও বিজয়ঘাটে। সেখান থেকে দেশের অখণ্ডতা ও স্বাধীনতা রক্ষায় জীবন বলিদান দেওয়া সেনানীদের স্মৃতিতে নির্মীত অমর জওয়ান জ্যোতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন প্রণববাবু।

এর পর প্রোটোকল মেনে রাষ্ট্রপতি ভবনের এক প্রতিনিধির সঙ্গে রাইসিনা হিলসে যান প্রণব মুখোপাধ্যায়। সেখান বিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিলের সঙ্গে সাক্ষাত্‍ করেন তিনি। এর পর পরম্পরা মেনে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ফিটন গাড়িতে প্রেসিডেন্ট'স বডিগার্ড রেজিমেন্ট'-এর অশ্বারোহী বাহিনী পরিবৃত হয়ে প্রতিভা পাটিল প্রণববাবুকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রা শুরু করেন সংসদ ভবনের দিকে।


সংসদ ভবনে তখন উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার স্পিকার, উপরাষ্ট্রপতি-সহ সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট অতিথিরা। আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জ্ঞাপনের পর বিদায়ী এবং ভাবী রাষ্ট্রপতি যান সংসদের সেন্ট্রাল হলে। বেলা সাড়ে ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সারোষ হোমি কপাডিয়া প্রণববাবুকে শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথগ্রহণের সময় মঞ্চে কে কোথায় বসবেন তাও পূর্বনির্ধারিত ছিল। মঞ্চের একদম বাঁ দিকে ছিলেন লোকসভার স্পিকার মীরা কুমার, তার পর রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি,  এরপর যথাক্রমে বিদায়ী এবং ভাবী রাষ্ট্রপতি। প্রণববাবুর ডানদিকে ডান দিকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এইচ কাপাডিয়া বসেছিলেন। শপথের পর প্রতিভা পাটিল এবং প্রণববাবু নিজেদের মধ্যে আসন বদল করেন। দর্শক আসনে ছিলেন মনমোহন সিংহ, সনিয়া গান্ধী, সুষমা স্বরাজ, এপিজে আবদুল কালাম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিশিষ্ট অতিথিরা ।


রাষ্ট্রপতি পদে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের শপথের পর ২১বার তোপধ্বনি করে সামরিক বাহিনীর নয়া সুপ্রিম কম্যান্ডারকে সম্মান জানানো হয়। এর পর প্রথা মেনে সংসদের সেন্ট্রাল হলে আনুষ্ঠানিক ভাষণ দেন প্রণববাবু। তাঁর ইংরেজি ভাষণ হিন্দিতে অনুবাদ করে শোনান উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি। অনুষ্ঠান শেষে অশ্বারোহী 'প্রেসিডেন্ট'স বডিগার্ড রেজিমেন্ট'-এর ঘেরাটোপে একই গাড়িতে রাষ্ট্রপতি ভবনে ফেরেন প্রণব-প্রতিভা। সেখানে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর তরফে নয়া রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতি ভবনে ফিরে প্রতিভা প্রাটিল প্রণববাবুকে রাষ্ট্রপতির অফিস ঘর, স্টাডি রুমে নিয়ে যান। আনুষ্ঠানিক পরিচয় করিয়ে দেন, ভবনের পধিকারিকদের সঙ্গে। এরপর বাইরে এসে প্রথা মেনে ফিটন গাড়িতে চড়ে উত্তরসূরীকে নিয়ে একটি জিপের সামনে আনেন প্রতিভা পাটিল। সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার তরফে প্রণববাবুকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। সবশেষে প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রতিভা পাটিলকে তুঘলক রোডে তাঁর অস্থায়ী বাসভবন পর্যন্ত পৌঁছে দিতে যান।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।