দ্রুত কার্যকর হবে তিস্তা চুক্তি, আশ্বাস প্রণবের

Update: March 3, 2013 09:50 IST

বিরোধী নেত্রী বৈঠক বাতিল করেছেন। কিন্তু ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটা হল আন্তরিক উষ্ণতার আবহেই। দ্রুত তিস্তা জলবণ্টন চুক্তির আশ্বাস দিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। তখন সেখানে উপস্থিত তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মুকুল রায়ও।

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকে প্রত্যাশিত ভাবেই এল তিস্তা জলবণ্টন চুক্তির কথা। শেখ হাসিনা যখন কথাটা তুললেন তাঁর চোখ তখন রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধিদলের সদস্য, সিপিআইএম সাংসদ সীতারাম ইয়েচুরির দিকে। মুচকি হেসে সীতারাম ইয়েচুরি বললেন, তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। আপত্তি তো ওঁদের। ইয়েচুরি ইঙ্গিতটা করলেন তৃণমূল সাংসদ মুকুল রায়ের দিকে। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয় তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর। স্থগিত হয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে শেষ মুহূর্তে সরে আসেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফরে তাঁর প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য তৃণমূলের নম্বর টু মুকুল রায়। তাঁর সামনেই প্রণব মুখোপাধ্যায় আশ্বাস দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে। আশ্বাস দিলেন দ্রুতই বাস্তবায়িত হবে তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভারতের রাষ্ট্রপতি তুললেন পশ্চিমবঙ্গের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর কথাও। বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার কথাই তুললেন প্রণব মুখোপাধ্যায়।

বাংলাদেশে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যেই সেদেশের সরকারের আমন্ত্রণে আজ ঢাকা পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম  বিদেশ সফর। তিন দিনের সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করবেন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের। যদিও, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেছেন বিরোধী দলনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম  বিদেশ সফর। তিন দিনের সফরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ জিল্লুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও দেখা করার কথা ছিল প্রণব মুখোপাধ্যায়ের। কিন্তু সূত্রের খবর বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির দিকে নজর দিয়ে বিএনপি সুপ্রিমোর সঙ্গে সাক্ষাত বাতিল করেছেন রাষ্ট্রপতি।



রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসাবে বাংলাদেশ গেছেন রেল প্রতিমন্ত্রী অধীর চৌধুরী ও চার সাংসদ মুকুল রায়, সীতারাম ইয়েচুরি, চন্দন মিত্র এবং ভুবনেশ্বর কলিতা।

সূচী অনুযায়ী ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি পণ্যবাহী ট্রেনের উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সফর চলাকালীন তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সম্মানিক ডক্টরেট উপাধি গ্রহণ করবেন তিনি। ঢাকা থেকে নরাইল জেলার ভদ্রবিলা এবং কুষ্ঠিয়া জেলার শিলাইদহ ও মির্জাপুরেও যাবেন রাষ্ট্রপতি। প্রণব মুখোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন দুদেশের সম্পর্ক ইতিবাচক পথে এগিয়েছিল। ফলে, তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা হলেও যে চিড় ধরেছে, রাষ্ট্রপতির আসন্ন ঢাকা সফরে তা অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করছে বিদেশমন্ত্রক। 






Post Your Comment

Total Comments:3

People has conception Awamileague is powerful by India. We don`t know, that is right or wrong. But, BNP - Jamaat believe that, that is true. Few days ago BNP leader Faqrul has said India is behind Awamileague. And Bangladeshi mezority people believe that, Hindu means India. Afetr the Judgement of Delwar Hossian Syeedi, they have started brutality on Hindu Community in Bangladesh. Now a lot of people are Homeless and foodless. They are poor. They are second class citizen by the mercy of Khaleda Zia. West Pakistan is Hinduless, and same thing happening in Bangladesh. Muslim population increases and Hindu population Decreases, what kinds of formula is that? Is Chritian and Buddist are safe? no. After 2001 (BNP Jamaat Zote came to power) 18 people killed in Nouga. They were in prayer in the church. Buddist priest was behaded in Chittagong. 50,000 hindus home was loted and burned. Three thousand hindus were killed by the blessings of Khleda gong.

Please read today`s ``Kaler Kantha`` about Chittagong tragedy.

What is the remedy for Hindus in Bangladesh. They are under brutality of Jamat Shibir and BNP.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।