শেষ হল রাইসিনার রেস, গণনা রবিবার

Update: July 19, 2012 10:14 IST

শেষ হল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে প্রায় কোনও সংশয়ই নেই। কৌতূহল যে টুকু, তা শুধু ব্যবধান নিয়েই! বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দেশের পয়লা নম্বর নাগরিকের নির্বাচনপর্ব শুরু হওয়ার পর এক কথার এটাই ছিল জাতীয় তথা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের আবহ।

অলৌকিক কিছু না ঘটলে এবারের রাষ্ট্রপতি ভোটে এনডিএ, এডিএমকে এবং বিজেডি সমর্থিত প্রার্থী পূর্ণ অ্যাজিটক সাংমার বিরুদ্ধে ইউপিএ প্রার্থী প্রণব মুখার্জির জয় নিশ্চিত। শেষ মূহুর্তে তৃণমূল নেত্রী অবস্থান বদলে কীর্ণাহারের সন্তানকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রথমবারের জন্য কোনও বঙ্গসন্তানের রাইসিনা হিলসে যাওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে। যদিও প্রাথমিকভাবে প্রণববাবুর সামনে পাটিগণিতের হিসেবটা এত সহজ ছিল না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই ১৯৬৯ সালে নীলম সঞ্জীব রেড্ডিকে বনাম ভি ভি গিরির মতো 'কাঁটে কা টক্কর'-এর পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু মুলায়মের সমাজবাদী পার্ট, মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি, পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, সিপিআইএম, ফরওয়ার্ড ব্লকের পাশাপাশি এনডিএ-র শরিক শিবসেনা এবং জনতা দল(ইউনাইটেড) প্রণববাবুর পাশে দাঁড়ানোর পরই সংখ্যা অর্জনের যুদ্ধে অনেকটাই এগিয়ে যান ইউপিএ-র ক্রাইসিস ম্যানেজার। তবে এদিন ভোট দেওয়ার সময় ভুল করে এনডিএ প্রার্থী পি এ সাংমার নামের পাশে ভোট দিয়ে ফেলেন মুলায়ম সিং যাদব। পরক্ষণেই ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলেন তিনি।

সংসদের উভয়কক্ষ এবং বিভিন্ন রাজ্য বিধানসভার সদস্যদের নিয়ে গঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইলেকটোরাল কলেজে মোট ভোটমূল্য ১০,৯৮,৮৮২। জেতার জন্য প্রয়োজন, ৫,৪৯,৪৪২ ভোট। এর মধ্যে 'পূর্ঘোষিত সমর্থন' অনুযায়ী অন্তত ৭,১৯,০০০ ভোট পাওয়া উচিত প্রণববাবুর। মেঘালয়ের দলত্যাগী এনসিপি নেতা পি এ সাংমা পেতে পারেন ৩,১৩,০০০ ভোট। এখনও পর্যন্ত ৩৬,০০০ ভোটের 'গন্তব্য' সম্পর্কে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভার পাশাপাশি সংসদের সংসদের ৬৩ নম্বর কক্ষে হয়েছে ভোটগ্রণ। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। বিভিন্ন দলের ৮০ জন সাংসদ বাদে লোকসভা ও রাজ্যসভার বাকি সদস্যরা সকলেই দিল্লিতে ভোট দেন। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সাংসদরা বিধানসভা ভবনে ভোট দেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ভোটগ্রহণ হয়েছে অধিবেশন কক্ষে। ভোটদানে বিরত থাকেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদ কবীর সুমন। শারীরিক অসুস্থতা ও নিজের দলের সাংসদদের দ্বারা হেনস্থা হওয়ার আশঙ্কাতেই তাঁর এই স্বেচ্ছা অনুপস্থিতি বলে জানা গেছে।

এদিন সমস্ত সাংসদ ও বিধায়কদের পরিচয়পত্র নিয়ে সংসদ ভবন বা স্ব স্ব রাজ্যের বিধানসভায় ঢুকতে হয়েছে। এমনকী ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে মোবাইলের ওপরও জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা। গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণের সময় পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে 'এক' সংখ্যাটি লিখতে হয়েছে ভোটারদের। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্দিষ্ট কালির পেনেই দেশের সমস্ত সাংসদ-বিধায়ককে ভোট দিতে হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্যালট নিয়েও ভোট না দেওয়ার অধিকার রয়েছে ভোটারদের। সেক্ষেত্রে ভোটদানে অনিচ্ছুক ভোটারকে রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে একটি ফর্ম নিয়ে লিখে জানাতে হয়েছে, তিনি ভোট দেননি।






Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।