প্রেসিডেন্ট বাছতে ফের ভোট মিশরে

Update: May 23, 2012 11:50 IST

যুযুধান ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে কেউ জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ার দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে মিশরে। আগামী ১৬ এবং ১৭ জুন অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে মুখোমুখি লড়াই হবে মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মহম্মদ মুরসি এবং হোসনি মুবারক জমানার শেষ প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিকের মধ্যে। কারণ, বুধবার হওয়া নির্বাচনে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন এই দুই প্রার্থী।

বুধবার মিশরের প্রেসিডেন্ট ভোটের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন আরব লিগের প্রাক্তন সচিব তথা প্রাক্তন শীর্ষস্তানীয় কূটনীতিক আমর মুসা, ক্ষমতাচ্যূত প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের আমলের শেষ প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিক, মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মহম্মদ মুরসি এবং তাহরির স্কোয়্যার আন্দোলনের অগ্রণী সংগঠক তথা ইসলামিস্ট মুভমেন্ট-এর প্রাক্তন নেতা আবদেল মোনেম আবুল ফোতয়া। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিয়নিয়রিং বিভাগের প্রাক্তনী মহম্মদ মুরসি এবং মিশরের বিমানবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান তথা মুবারক জমানার অন্তিম সময়ে সামান্য দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া আহমেদ শফিকের মধ্যে। প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হলে নীল নদের তীরে 'দ্বিতীয় আরব বসন্ত' আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শফিক। দেশের আমজনতার কাছে সেই অঙ্গীকার যে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য হয়েছে, ভোটের ফলাফলেই তা পরিষ্কার।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মুবারকের পতনের পর মিশরে ক্ষমতার রাশ ছিল সেনা কর্তৃপক্ষের হাতে। দেশে গণতন্ত্র আনার প্রতিশ্রুতি দেন তাঁরা। কিন্তু, সে কাজে দেরি হওয়ায় শুরু হয় গণবিক্ষোভ। মুবারক জমানায় বিক্ষোভের প্রধান কেন্দ্র তাহরির স্কোয়্যার ফের ভরে উঠতে থাকে পরিবর্তনকামী জনতার ভিড়ে। বহু বাধা বিঘ্ন কাটিয়ে অবশেষে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে গণতন্ত্রের প্রথম ধাপের স্বাদ পায় মিশরের আম-জনতা। জাতীয় আইনসভার দুই কক্ষের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয় মুবারক জমানার প্রধান বিরোধী শক্তি মুসলিম ব্রাদারহুড। জুন মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও নিশ্চিতভাবেই পাল্লা ভারী দলের নেতা মুরসির।





Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।