ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি সিদ্ধান্ত সঠিক: প্রধানমন্ত্রী

Update: September 15, 2012 13:27 IST

ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে একদিকে দেশব্যাপী সরকার বিরোধী সুর চড়া হচ্ছে। এমনকি, বিরোধীদের পাশাপাশি শরিক দলগুলিও কেন্দ্রের এই জনবিরোধী সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে শনিবার মূল্যবৃদ্ধির আত্মপক্ষ সমর্থনে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। এই মূল্যবৃদ্ধিকে আর্থিক সংষ্কারের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

সংস্কারের ব্যাপারে কেন্দ্র যে অনড়, দেশব্যাপী আন্দোলনের মাঝে আজ আরও একবার তা স্পষ্ট করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। যোজনা কমিশনের বৈঠকে আজ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সঠিক। সঠিক খুচরো ব্যবসায়ে বিদেশি বিনিয়োগের সিদ্ধান্তও। 

ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, এলপিজি সিলিন্ডারের ভর্তুকির কোটা বেঁধে দেওয়া এবং খুচরো ব্যবসায়ে বিদেশি বিনিয়োগ। কেন্দ্রের একের পর এক সিদ্ধান্তে দেশব্যাপী আন্দোলনের ঢেউ উঠেছে। বিরোধীরা তো বটেই প্রতিবাদে সরব ইউপিএ শরিক তৃণমূল কংগ্রেসও। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সরকার যে তাতে দমেনি, তা একরকম পরিষ্কার। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং এফডিআইয়ের বিরোধিতায় দেশব্যাপী বিক্ষোভের মাঝেই শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দেন ডুবতে হলে লড়াই করেই ডুবব। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের প্রশ্ন নেই। আর শনিবার যোজনা কমিশনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সঠিক।

খুচরো ব্যবসায়ে বিদেশি বিনিয়োগের পক্ষেও সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক বিকাশের গতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরির বৈঠক ছিল শনিবার। আর্থিক বিকাশের হারের লক্ষ্যমাত্রা আগের তুলনায় কমিয়ে ৮.২ শতাংশ স্থির হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বেসরকারি বিনিয়োগ একান্ত জরুরি বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। একাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় আর্থিক বিকাশের হার ৭.৫ শতাংশে পৌঁছেছে, কৃষির বিকাশ বেড়ে হয়েছে ৩.৩ শতাংশ। দেশে গরিবের সংখ্যাও কমেছে বলেই প্রধানমন্ত্রী জানান।



Post Your Comment

Total Comments:2

আর্থিক সংষ্কার নয়,আমেরিকার কাছে তাঁর নিজের পুরুষত্ব এবং প্রভুত্ব তুলে ধরতেই এই সিদ্ধান্ত । এর পর নোবেল পুরস্কার পেলেও অবাক হবার কিছু নেই।

right time to take proper decision

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।