তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই

Update: November 30, 2012 21:39 IST

সিঙ্গুরে প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। দেখা করা দূরের কথা, সিঙ্গুরে গিয়ে রবীন্দ্রনাথবাবুর নাম একবারের জন্যেও মুখে আনেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং বুঝিয়ে দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য আর বেচারাম মান্নার দ্বৈরথে তিনি বেচারাম মান্নার পক্ষেই রয়েছেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকের পরেই রবীন্দ্রনাথবাবু মন্ত্রীত্ব এবং বিধায়ক পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। আরও একবার স্পষ্ট করে দেন নিজের অনড় অবস্থান।

শুক্রবার সিঙ্গুর সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত সচেতন ভাবে বুঝিয়ে দেন, তাঁর সমর্থন কার পক্ষে। একবারের জন্যেও মুখে আনেননি সিঙ্গুরের মাস্টারমশাইের নাম। মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুর ছাড়ার পরই তাই তড়িঘড়ি সাংবাদিক সম্মেলন করেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। দলের প্রতি ক্ষোভ বা নেত্রীর প্রতি অভিমান, কোনওটাই যাতে সামনে না আসে, সে চেষ্টা আগাগোড়া করে গিয়েছেন বর্ষীয়ান এই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অবসর গ্রহণের ঘোষণায় কোথাও যেন লুকিয়ে ছিল অভিমানের সুরই।     

সিঙ্গুর আন্দোলনের মুখ হিসেবে পরিচিত তিনি। সেই সিঙ্গুর যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় আসার অন্যতম কারণ। সেখানে আজ দলনেত্রীর কাছে, দলের কাছে অবজ্ঞার পাত্র হয়ে ওঠাই কী রাজনীতি থেকে সরে আসার আসল কারণ? এর পাশাপাশি, দলেরই একাংশের নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির মতো মারাত্মক অভিযোগ তুলে সরে গেলেন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির রবীন্দ্রনাথবাবু। রাজনৈতিক মহলের মত, তাঁর এভাবে সরে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সততার প্রতীক ভাবমূর্তির সামনে বড় প্রশ্নচিহ্ন রেখে গেল।  


Post Your Comment

Total Comments:2

BANGLAR KACHE BARTTA GELO - ``SATT LOKER STAN TRINOMULE NAI``

SAT MANUSH KAKHONO NIJER SATATAR KATHA PROCHAR KARE NA...ETA TAR SWABHABJATO,AMDER MONONE SATATAR ANEK PRATIK ACHEN..aboshye tar modhye didi nei..jara achen tara pratoswaronio, dhik.. didi dhik.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।