রাজোয়ানার ফাঁসি ঘিরে অনিশ্চয়তা অব্যাহত

Update: March 27, 2012 19:53 IST

আগামী ৩১ মার্চ পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের হত্যাকারী বলবন্ত সিং রাজোয়ানাকে ফাঁসি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে চন্ডীগড়ের ট্রায়াল কোর্ট। এদিন পাতিয়ালা সেন্ট্রাল জেল কর্তৃপক্ষের কাছে এ সংক্রান্ত আইনি নির্দেশাবলী পাঠিয়েছেন অতিরিক্ত দায়রা বিচারক শালিনী নাগপাল। যদিও পঞ্জাবের শিরোমনি অকালি দল-বিজেপি জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদল সরাসরি তাঁর রাজ্যের কোনও জেলে রাজোয়ানার ফাঁসি কার্যকর করার বিরুদ্ধাচরণ করায় চন্ডীগড় আদালতের নির্দেশ কী ভাবে পালিত হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ের অবকাশ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল এবং প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে আলোচনার জন্য এদিন রাতেই দিল্লি এসে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদল।

সোমবারই চন্ডীগড়ের ট্রায়াল কোর্টের নোটিশ এসে পৌঁছেছিল পাতিয়ালা সেন্ট্রাল জেলের সুপার লখিন্দর সিং ঝাখরের কাছে। রাজোয়ানার মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করার নির্দেশ ছিল সেই নোটিশে। কিন্তু অতিরিক্ত দায়রা বিচারক শালিনী নাগপালের এজলাসে হাজির হয়ে সেই 'মৃত্যু পরোয়ানা' ফেরত দেন ঝাখর। আজ ফের ফাঁসির আদেশ কার্যকরের নোটিশ পাতিয়ালা জেলে পাঠিয়েছেন বিচারক নাগপাল। সেই সঙ্গে আদালত অবমাননার দায়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে জেল সুপার লখিন্দর সিং ঝাখরকে। ১৯৯৫ সালে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংকে মানববোমা বিস্ফোরণে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজোয়ানার মৃত্যুদণ্ড এবং জগতার সিং হাওয়ারা-সহ কয়েকজনের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডের সাজা হয়।

এদিন পঞ্জাবের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল অনুপিন্দর সিং গ্রেওয়াল চন্ডীগড় আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে কোনও অভিযুক্তের ক্ষমাপ্রার্থনার আর্জি জমা পড়লে সেই মামলার কোনও মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা যাবে না বলে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। তাই রাজোয়ানা নিজে প্রাণভিক্ষার আর্জি না জানালেও তাঁর ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার ব্যাপারে আইনি বাধা রয়েছে।

ইতিমধ্যেই রাজোয়ানার ফাঁসির বিষয়টি নিয়ে পঞ্চনদের তীরে যথেষ্ট রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। শিরোমনি অকালি দল এবং শিরোমনি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটির তরফে বিয়ন্ত সিংয়ের হত্যাকারীকে ফাঁসি না দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। ফাঁসির নির্দেশের প্রতিবাদে বুধবার পঞ্জাব বন্‌ধেরও ডাক দিয়েছে কয়েকটি শিখ সংগঠন। সূত্রে খবর, এই পরিস্থিতিতে শিখ ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে বিষয়টি নিয়ে তড়িঘড়ি করতে চাইছে না কেন্দ্রীয় সরকার।

এদিন মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী সলমন খুরশিদ জানিয়েছেন, আইনি পদ্ধতি অনুযায়ী এ বিষয়ে এগোতে হবে। রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারের পক্ষে আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে হেঁটে কিছু করার উপায় নেই। অন্যদিকে এদিন নিজের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এক খোলা চিঠিতে রাজোয়ানা জানিয়েছেন, তাঁকে ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ হয়েছে অকালি নেতৃত্ব। তাই অকালি নেতাদের সমর্থনের কোনও প্রয়োজন নেই তাঁর।



Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।