ফিরে দেখা ২৬/১১

ফিরে দেখা ২৬/১১

ফিরে দেখা ২৬/১১ছাব্বিশ এগারোর মুম্বই হামলা। ভারতের মাটিতে পাক জঙ্গিদের সবচেয়ে জঘন্য নাশকতা হিসাবেই পরিচিত। প্রায় তিন দিন ধরে মুম্বইজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছিল দশ পাক জঙ্গি। সংঘর্ষে নজন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছিল। ধরা পড়েছিল একমাত্র আজমল কসাভ। গত বুধবার তার ফাঁসির নির্দেশ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুম্বইহানার একটি অধ্যায়ে যবনিকা পড়ে।

২৬ নভেম্বর, দুহাজার আট।

আর পাঁচটা দিনের সঙ্গে কোনও তফাত ছিল না ব্যস্ত মুম্বইয়ের। কিন্তু আচমকাই ছবিটা বদলে গেল।

রাত আনুমানিক আটটা। সমুদ্রপথে মুম্বইয়ে পৌছয় লস্কর-এ-তৈবার দশ জঙ্গির একটি দল। খুব দ্রুততার সঙ্গে পাঁচটি দলে ভাগ হয়ে ট্যাক্সি করে দশ জঙ্গি রওনা দেয় পূর্বনির্ধারিত টার্গেটে। রাতে ভিলে পার্লে এবং ওয়ালি বন্দরে দুটি ট্যাক্সিতে বিস্ফোরণও হয়।

ছাব্বিশ এগারোর হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র বড় ধরনের আঘাত হানা। তাই জনবহুল এবং পর্যটকদের ভিড় রয়েছে এমন জায়গাকেই নিশানা করেছিল পাক জঙ্গিরা।

ছত্রপতি শিবাজী টার্মিনাস। সেন্ট্রাল রেলের সদর দফতর এই স্টেশনে রোজ প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষের আনাগোনা। রাত নটার কিছু পরে আজমল কসাভ এবং তার সঙ্গী ইসমাইল খান হামলা চালায় সিএসটিতে। নির্বিচার গুলি এবং গ্রেনেডবৃষ্টিতে মৃত্যু হয়েছিল ৫৮ জনের। স্টেশনে উপস্থিত অল্প কয়েকজন পুলিসকর্মী কিভাবে ওই দুই জঙ্গির মোকাবিলা করেছিলেন, তা ধরা পড়েছিল সিসিটিভিতে।

সিএসটি থেকে কসাভ ও ইসমাইল রওনা দেয় কামা হাসপাতালের দিকে। পথে পুলিসের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুই জঙ্গি। মৃত্যু হয় মুম্বই পুলিসের তিন কর্তা, হেমন্ত কারকারে, অশোক কামটে, বিজয় সালাসকারের। তাঁদের গাড়ি ছিনতাই করে জঙ্গিরা। গিরগাঁও চৌপাট্টির কাছে পুলিস ব্যারিকেডে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয় ইসমাইলের। সাব ইন্সপেক্টর তুকারাম ওম্বলের তত্‍পরতায় ধরা পড়ে কসাভ। যদিও মৃত্যু হয় তুকারামের।

অন্যদিকে দুই জঙ্গি হামলা চালায় কোলাবার লিওপোল্ড ক্যাফেতে। বিদেশি পর্যটকদের নিয়মিত আনাগোনার কারণেই নিশানায় ছিল এই রেস্তোরাঁ। সেখানে তাণ্ডব চালিয়ে তারা চলে যায় তাজ হোটেলের দিকে।

অভিজাত তাজ হোটেলের হামলা চালিয়েছিল চার জঙ্গি। দুদিক দিয়ে হোটেলে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে তারা। হোটেলের একাংশে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। জঙ্গি তাণ্ডব আর অগ্নিকাণ্ডের জেরে হোটেলে আটকে পড়েন বহু অতিথি এবং কর্মী। তাজ হোটেল জঙ্গিমুক্ত করতে ২৭ নভেম্বর দায়িত্ব দেওয়া হয় এনএসজি কমান্ডোদের। হোটেল পুরোপুরি জঙ্গিমুক্ত হয় ২৯ নভেম্বর। তাজ হোটেলে হামলার সময় জঙ্গিরা সেখান থেকে লাগাতার পাকিস্তানে তাদের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। সেই টেলিফোন কথোপকথনের প্রতিলিপি থেকেই প্রথম পাক জঙ্গিদের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে।

মুম্বইয়ের আরও একটি পাঁচতারা হোটেল, ওবেরয়-ট্রাইডেন্টেও হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। নির্বিচারে খুনের পাশাপাশি বহু মানুষকে পণবন্দিও করা হয়েছিল। বিয়াল্লিশ ঘণ্টা পর ২৮ নভেম্বর জঙ্গিমুক্ত হয়েছিল ওবেরয়-ট্রাইডেন্ট।

নরিম্যান পয়েন্টের চাবাড হাউস ছিল একটি ইহুদি সংগঠনের সদর কার্যালয়। সেখানেও হামলা চালায় জঙ্গিরা। এনএসজি কমান্ডো অভিযানে চাবাড হাউস জঙ্গিমুক্ত হলেও, প্রাণহানি ঠেকানো যায়নি।

নভেম্বরের ২৬ থেকে ২৯, লাগাতার কমান্ডো অভিযানে হামলাকারী নয় জঙ্গিরই মৃত্যু হয়েছিল। একমাত্র কসাভকেই জীবিত ধরা গিয়েছিল। গত বুধবারই, আজমল কসাভের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।





First Published: Monday, November 26, 2012, 13:41


comments powered by Disqus