আতঙ্কের রেলযাত্রা

Update: October 10, 2012 21:32 IST

কাশ্মীর যাওয়ার পথে ট্রেনের মধ্যেই সর্বস্ব খোয়ালেন রাজা মণীন্দ্র চন্দ্র কলেজের অধ্যাপিকা সুরঞ্জনা সান্যাল। উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে চলন্ত ট্রেনে তাঁর হাত থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে নেমে যায় এক যুবক। ট্রেনের কামরায় ছিল না একজনও নিরাপত্তা রক্ষীও। জম্মু স্টেশনে জিআরপি জানিয়ে দেয় হাওড়াতে অভিযোগ জানাতে হবে। ফিরে এসে হাওড়া জিআরপিতে অভিযোগ দায়ের করতে গেলে তাঁকে চূড়ান্ত হেনস্থার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই অধ্যাপিকা।

রাত তখন চারটে। এস ২ কামরা। ট্রেনের চারটে দরজাই খোলা। বাইরের লোক অনবরত রিজার্ভ কামরায় উঠছে ও নামছে। বারণ করার কেউ নেই। নিজের বাঙ্কেই শুয়ে ছিলেন সুরঞ্জানাদেবী। হঠাত্‍‍ই এক যুবক এসে জোর করে ব্যাগটা কেড়ে নিয়ে যায় তাঁর। অনেকক্ষণ চিত্‍‍‍কার চেঁচামেচি পর তিনজন নিরাপত্তা কর্মীর শেষ পর্যন্ত দেখা মেলে। কিন্তু তাঁরা কোনও সাহায্য করেনি বলে ওনার অভিযোগ। না এখানেই শেষ না। অভিযোগ জানাতে গিয়ে হাওড়া জিআরপিতে এসেও চূড়ান্ত হয়রানির মুখে পড়তে হয় অধ্যাপিকাকে। আতঙ্কিত অধ্যাপিকার প্রশ্ন কোথায় রেলের নিরাপত্তা।

সামনেই পুজো। লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ চেপে বসবেন দুরপাল্লার ট্রেনে। কিন্তু নিরাপত্তা? পুলিশের ভূমিকা? কেন ডাইরি নিল না জিআরপি? দিনভোর রেল কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেও এর উত্তর মেলেনি।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।