সনাতনী সায়ন্তন

Update: September 28, 2012 04:08 IST

কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০১১। বিমুক্তি জয়সুন্দরের বিতর্কিত ছবি `ছত্রাক`-এর প্রিমিয়ার। ঐতিহ্যশালী সাদা-লাল ঢাকাই শাড়িতে রেড কার্পেটে হাঁটলেন পাওলি দাম। চারিদিকে বিদেশি ব্র্যান্ডের গাউনের মাঝখানে একমুঠো শিউলির সতেজতা স্নিগ্ধ করেছিল সকলকে। ডিজাইনারের নাম সায়ন্তন সরকার। কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের পাওলির প্রত্যেকদিনের পোষাকই বানিয়েছিলেন সায়ন্তন।

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ফ্যাশন টেকনোলজিতে পড়াশোনা। ২০০৫ -এ যাত্রা শুরু। সাত বছরের মধ্যেই ভারতে এবং বিদেশে নিজস্ব ক্লায়েন্টেল তৈরির পাশাপাশি টলিউড ও বলিউডেও পাকাপোক্ত জায়গা করে নিয়েছেন সায়ন্তন। সিমপ্লিসিটিতে বিশ্বাসী এই বাঙালি ডিজাইনারের মূল ফোকাস ইন্ডিয়ান ট্রাডিশনাল ওয়্যার। কটন, সিল্ক, চান্দেরি, জর্জেট, বেনারসি, শিফনে প্লিট ও লেয়ারসের আধিক্যে নিজের এক আলাদা স্টেটমেন্ট তৈরি করেছেন সায়ন্তন।
তবে সনাতনী ভারতীয় পোষাকে নিজের অভিনবত্ব সৃষ্টি করলেও বিদেশি পোষাকও জায়গা করে নিয়েছে তাঁর কালেকশনে। তাঁর স্টুডিওয় গেলেই দেখতে পাবেন শাড়ি, লেহেঙ্গা, সালওয়ার স্যুটের পাশাপাশি ফ্লোর স্কিমিং গাউন, টিউনিক বা ককটেল ড্রেস স্বমহিমায় বিরাজমান। সেইসঙ্গেই শুধুমাত্র মহিলাদের মধ্যেই নিজের ক্লায়েন্টদের সীমাবদ্ধ না রেখে অভিনব শেরওয়ানি, জ্যাকেট, বন্ধ‌্গলা স্যুটের মাধ্যমে পুরষদের মধ্যেও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছেন সায়ন্তন। ২০০৮-০৯ কলকাতা ফ্যাশন উইকে তরুণদের মধ্যে সবথেকে বেশি নজর কাড়েন সায়ন্তন। ২০০৯ থেকেই ভোগ ফ্যাশন ম্যাগজিনে নিয়মিত প্রকাশিত হয় তাঁর কালেকশনস। ২০১০ সালে ইন্ডিয়া-ইন্টারন্যাশনাল জুয়েলারি উইকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের ট্রেন্ড সেট করেন সায়ন্তন।

ছবির প্রিমিয়ার থেকে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, অভিনেত্রীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকেন তিনি। জিনাত আমন, মহিমা চৌধুরি, রাইমা সেন, স্বস্তিকা মুখার্জি, পাওলি দাম, কোয়েল মল্লিক, নয়নিকা চ্যাটার্জি, প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ড সায়ালি ভগত তাঁর ডিজাইনে চোখ আটকেছে সবারই। বাদ যাননি সনাতনী ভারতীয় সাজের প্রতিভূ উষা উত্থুপও।

কলকাতার রাসবিহারী এভিনিয়্যুতে নিজের স্টুডিয়ো ছাড়াও মুম্বই, হায়দরাবাদ ও আমেদাবাদের বিভিন্ন মাল্টি ডিজাইনার স্টোরে পাওয়া যায় সায়ন্তনের পোষাক।




Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।