সাজানো সংঘর্ষে অভিযুক্ত ভাবি সেনাপ্রধান, ফাইল তলব সুপ্রিম কোর্টের

Update: April 23, 2012 14:27 IST

মাস কয়েক আগেই `বর্তমান`-এর বয়স নিয়ে বিতর্কের রেশ গড়িয়েছিল শীর্ষ আদালতে। এবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন তালিকায় চলে এল `ভবিষ্যত্‍`-এর অতীত।

সেনাপ্রধান বিজয়কুমার সিংয়ের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিক্রম সিংয়ের বিরুদ্ধে এবার ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, ভারতীয় ফৌজের ইস্টার্ন কম্যান্ডের বর্তমান কম্যান্ডিং অফিসার জম্মু ও কাশ্মীরে রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের একজন ব্রিগেডিয়ার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় এক সাধারণ গ্রামবাসীকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করে ভুয়ো সংঘর্ষে খুন করিয়েছিলেন। ২০০১ সালের মার্চ মাসে অনন্তনাগ জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে আবদুল্লা ভাট ওই ৬০ বছরের বৃদ্ধকে সাজানো সংঘর্ষে খুন করে বিক্রম সিংয়ের কমান্ডে থাকা ১ নম্বর সেক্টরের রাষ্ট্রীয় রাইফেলস-এর কয়েকজন জওয়ান ও অফিসার। নিহত আবদুল্লাকে বিদেশি সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন বিক্রম সিং। আর তার জেরে সেনা পদকও জুটেছিল এই `দাগি` সেনাকর্তার।

গত ৪ এপ্রিল ভুয়ো সংঘর্ষের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে অভিযুক্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিক্রম সিং`কে পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। আবেদনকারীদের তালিকায় ছিলেন ভারতীয় নৌবাহিনীর দুই প্রাক্তন অ্যাডমিরাল লক্ষ্মীনারায়ণ রামদাস ও বিষ্ণু ভাগবত এবং প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এন গোপালস্বামী। শুধু কাশ্মীরের মাটিতে `ফেক এনকাউন্টার` সংগঠিত করাই নয়, শীর্ষ আদালতে দায়ের করা মামলার আবেদনকারীদের অভিযোগ, ২০০৮ সালে আফ্রিকার কঙ্গোতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্বে থাকার সময় ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত অধস্তন সেনা অফিসারদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিক্রম সিং। নানা গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত বিক্রম সিংকে পরবর্তী সেনাপ্রধানের কুরসিতে না বসিয়ে আপাতত জেনারেল ভি কে সিংকেই স্বপদে বহাল রাখার জন্য কেন্দ্রকে নির্দেশ দিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আর্জি জানান দুই প্রাক্তন নৌপ্রধান-সহ অভিযোগকারী পক্ষের সদস্যরা।

এই জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে এদিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিক্রম সিংয়ের সার্ভিস রেকর্ডের ফাইল তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি আর এম লোঢা এবং বিচারপতি এইচ এল গোখলে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবারের মধ্যেই মনমোহন সরকার নির্বাচিত পরবর্তী সেনাপ্রধানের সার্ভিস রেকর্ড ও পদোন্নতি সংক্রান্ত ফাইল জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন কেন্দ্রের হয়ে সওয়ালকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জি ই বাহনবতী এবং সলিসিটর জেনারেল রোহিনটন এফ নরিম্যানকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভাবী সেনাপ্রধানের `ইতিহাস` সংক্রান্ত স্পর্শকাতর অভিযোগ সম্পর্কে অস্বস্তি এবং জনস্বার্থ মামলার গুরুত্বের বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকার কারণেই এদিন সুপ্রিম কোর্টে একই সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল ও সলিসিটর জেনারেলের মতো দুই শীর্ষ আইনি পরামর্শদাতাকে সওয়াল করতে পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু মনমোহন-অ্যান্টনির অস্বস্তি বাড়িয়ে `দাগি` সেনাকর্তার ফাইল তলব করল দুই বিচারপতির বেঞ্চ।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।