সংখ্যালঘু সংরক্ষণ, কেন্দ্রের আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের `সাব কোটা` ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্ট ধাক্কা খেল কেন্দ্রীয় সরকার। এ বিষয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশের আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু সেই আর্জিকে আজ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে বিচারপতি কে এস রাধাকৃষ্ণণ এবং বিচারপতি জে এস খেহারকে নিয়ে গঠিত শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ।

Updated: Jun 13, 2012, 01:14 PM IST

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের `সাব কোটা` ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্ট ধাক্কা খেল কেন্দ্রীয় সরকার। এ বিষয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশের আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু সেই আর্জিকে আজ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে বিচারপতি কে এস রাধাকৃষ্ণণ এবং বিচারপতি জে এস খেহারকে নিয়ে গঠিত শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ।
গত ২২ ডিসেম্বর সরকারি শিক্ষা এবং চাকরির ক্ষেত্রে অনগ্রসর শ্রেণির জন্য সংরক্ষিত ২৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৪.৫ শতাংশ আসন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষভাবে সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু গত ২৮ মে বিচারপতি মদন বি লকুর ও বিচারপতি পি ভি সঞ্জয়কুমারকে নিয়ে গঠিত অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ মনমোহন সরকারের এই উদ্যোগ খারিজ করে দেয়। দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ সংরক্ষণ চালু করার প্রস্তাবে ধর্মীয় কারণটাই মুখ্য। এক্ষেত্রে অনগ্রসরতার বিষয়টিকে কার্যত উপেক্ষা করা হচ্ছে। মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ইত্যাদি নানা ধর্মীয় গোষ্ঠীতে বিভক্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের জন্য একত্রে সংরক্ষণ চালু করার কেন্দ্রীয় নীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে দুই বিচারপতির বেঞ্চ। তা ছাড়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য নির্ধারিত ২৭ শতাংশ সংরক্ষণের মধ্যে থেকে সংখ্যালঘুদের ৪.৫ শতাংশ `সাব-কোটা` বরাদ্দ করার কেন্দ্রীয় প্রস্তাবের সমালোচনা করে অন্ধ্র হাইকোর্ট বলে, এখনও অনগ্রসর শ্রেণির বহু মানুষ রয়েছেন, যাঁদের সংরক্ষণ সত্যিই প্রয়োজন। ধর্মের ভিত্তিতে তাঁদের অংশে ভাগ বসানো অনুচিত।
অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইউপিএ সরকার। কিন্তু গত সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে অ্যাটর্নি জেনারেল জি ই বাহনবতী শীর্ষ আদালতের বেঞ্চে অন্ধ্র হাইকোর্টের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, আইআইটি`তে ভর্তির ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সংরক্ষণ চালু করার জন্য সরকারি প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়েছে। অন্ধ্র হাইকোর্টের রায় বহাল থাকলে ভর্তির ক্ষেত্রে অচলাবস্থা দেখা দেবে। কিন্তু দুই বিচারপতির বেঞ্চ পালটা জানতে চায়, কোন পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্র সংখ্যালঘুদের জন্য ৪.৫ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করার সিদ্ধান্ত নিল। এমনকী এই নিয়ে কেন্দ্রের দাখিল করা নথিও পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত। গতকাল এ বিষয়ে কেন্দ্রের তরফে নথিপত্র পেশ করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু `সংরক্ষণের ভিতর সংরক্ষণ` চালু করার কেন্দ্রীয় উদ্যোগের বিরুদ্ধে অন্ধ্র হাইকোর্টের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ জারির আর্জি এদিন খারিজ করে দেয় বিচারপতি কে এস রাধাকৃষ্ণণ এবং বিচারপতি জে এস খেহারের বেঞ্চ।