দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে বেঙ্গালুরুর মসনদে জগদীশ শেট্টার

Update: July 12, 2012 16:51 IST

চার বছরের মধ্যে তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী বদল হল দক্ষিণ ভারতের একমাত্র গৈরিক রাজ্যে। দেভারাগুন্ডা ভেঙ্কাপ্পা সদানন্দ গৌড়ার উত্তরসূরী হিসেবে বেঙ্গালুরুর মসনদে আসীন হলেন জগদীশ শিভাপ্পা শেট্টার। আর কন্নড় মুলুকে ক্ষমতার এই হাতবদলে নেপথ্যশক্তি হিসেবে রইলেন রাজ্য বিজেপি`র বিতর্কিত নেতা বোকানাকেরে সিদ্ধালিঙ্গাপ্পা ইয়েদুরাপ্পা।

মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে দুই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক অরুণ জেটলি ও রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতিতে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন শেট্টার। দলের সিদ্ধান্ত মেনে বুধবার কর্ণাটকের রাজ্যপাল হংসরাজ ভরদ্বাজের সঙ্গে সাক্ষাত্‍ করে ইস্তফাপত্র জমা দেন গত বছরের অগসদানন্দ গৌড়া। কিন্তু তার পরও মন্ত্রিত্ব নিয়ে টানাপোড়েন চলতে থাকে রাজ্য বিজেপির বিভিন্ন শিবিরের মধ্যে। খবর মেলে, নিজের ঘনিষ্ঠ নেতাদের পছন্দসই দফতরের মন্ত্রী করা নিয়ে ইয়েদুরাপ্পার সঙ্গে সংঘাত বেধেছে শেট্টারের।

অন্যদিকে বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অনন্তকুমার, রাজ্য সভাপতি কে এস এশ্বরাপ্পা, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সদানন্দ গৌড়া এমনকী সরকার সমর্থক অন্য দল ও নির্দল বিধায়কদের ১১ জনের গোষ্ঠীও মন্ত্রিত্বের ভাগ নিয়ে তদবির শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে এশ্বরাপ্পা এবং অনন্তকুমারের অনুগামী ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের নেতা আর অশোককে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করে ৩৩ জনের জাম্বো ক্যাবিনেট গড়তে বাধ্য হয়েছে বিজেপি। নতুন মন্ত্রিসভার নতুন মুখের সংখ্যা ১১।

তবে মুখ্যমন্ত্রী বদল করে আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও রাজনৈতিক মহলের ধারণা, লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বজায় রাখার প্রশ্নে শীঘ্রই শেট্টারের সঙ্গে সংঘাত বাঁধবে ইয়েদুরাপ্পার। পাশাপাশি শপথ নেওয়ার আগেই এদিন শেট্টারের বিরুদ্ধে জমি কেলঙ্কারি সংক্রান্ত কিছু তথ্য ফাঁস হওয়ায় বিরোধীদের তরফে গোড়া থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর উপর চাপ তৈরি করা হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে ইতিমধ্যেই।

বছর ছ`য়েক আগে বিজেপি-জনতা দল(সেকুলার) কোয়ালিশন সরকারের রাজস্বমন্ত্রী থাকাকালীন বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে দর্শনপুরা এলাকায় ১৭৮ একর সরকারি জমি নিয়ম বহির্ভূতভাবে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছিলেন শেট্টার। স্থানীয় এক বাসিন্দার দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ তোলা হয়েছে, বেআইনিভাবে এই সরকারি জমি হস্তান্তরের ফলে রাজ্যের ক্ষতি হয় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। তাত্‍পর্যপূর্ণভাবে কর্ণাটকে আকরিক লোহা খনন কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত বল্লারির বিজেপি নেতা জি জনার্দন রেড্ডিকে অর্থের বিনিময়ে জামিন মঞ্জুর করার অভিযোগে এদিনই অন্ধ্রপ্রদেশে তিন বিচারককে গ্রেফতার করা হয়েছে।



Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।