মোদীর বিরুদ্ধে প্রার্থী অপসারিত পুলিসকর্তার স্ত্রী

Update: December 1, 2012 10:20 IST

আসন্ন গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হলেন অপসারিত পুলিসকর্তা সঞ্জীব ভাটের স্ত্রী শ্বেতা ভাট। গতকালই মণিনগর কেন্দ্রের কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন শ্বেতা ভাট। এদিনই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বিজেপির পোস্টার বয় নরেন্দ্র মোদীও।

গুজরাট হিংসা নিয়ে সরাসরি নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন আইপিএস অফিসার সঞ্জীব ভাট। তাঁর অভিযোগ ছিল হিংসা মোকাবিলায় পুলিসকর্তাদের ধীরে চল নীতি অনুসরণ করতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর জেরে অপসারিত হন সঞ্জীব ভাট। এই নিয়ে আইনি লড়াইও শুরু করেছেন এই অপসারিত পুলিস অফিসার। কিন্তু এবার লড়াইয়ের ময়দানটা ভিন্ন। আসন্ন গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে মণিনগর কেন্দ্র থেকে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সঞ্জীব ভাটের স্ত্রী শ্বেতা ভাট। শুক্রবার ওই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

বিধানসভা নির্বাচনের আর দু-সপ্তাহও বাকি নেই। ফের গুজরাতে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে জোরদার প্রচার শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। আজ প্রচারে যাচ্ছেন লালকৃষ্ণ আডবাণী ও সুষমা স্বরাজ। ভদোদরায় জনসভা করবেন লোকসভার বিরোধী দলনেত্রী। আগামী দুদিন প্রচারে ব্যস্ত থাকবেন লালকৃষ্ণ আডবাণীও। তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টায় খামতি রাখছেন না নরেন্দ্র মোদী। আগামী কয়েকদিন সৌরাষ্ট্র ও দক্ষিণ গুজরাতে সভা করবেন তিনি।

শুক্রবারই মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গুজরাটের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০০৭-এ মণিনগর কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। মুলত গুজরাটের উন্নয়ন এবং দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন এই দুই ইস্যুকে সামনে রেখেই ভোটযুদ্ধে নেমেছেন মোদী। কিন্তু ২০০২-এর হিংসায় মোদীর ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন বরাবরই তাঁকে অস্বস্তিতে রেখেছে। আগামী ১৩ এবং ১৭ ডিসেম্বর দুদফায় গুজরাটে বিধানসভার ভোট। ভোটের ফল জানা যাবে ২০ ডিসেম্বর।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।