টুজি ইস্যুতে কংগ্রেসের নিশানায় বিজেপি

Update: November 23, 2012 14:38 IST

টুজির স্পেকট্রাম বণ্টনের প্যানেল রিপোর্ট নিয়ে সিএজির প্রক্তন আধিকারিকের তোলা অভিযোগ বিজেপির কাছে বুমেরাং হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। বরিষ্ঠ বিজেপি নেতা মুরলী মনোহর যোশীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে আজ সংসদ চত্তরে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে, সোনিয়া গান্ধী একথা জানান। যোশীর সমালোচনায় মুখ খুলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী মনিষ তিওয়ারিও। "সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ২০১০-এর মে মাসে আর পি সিং যখন রিপোর্ট প্রস্তুত করেন, তখন ক্ষতির পরিমান ছিল ২০ হাজার ৬৪৫  কোটি টাকা। আর সেই বছর নভেম্বর মাসে সংসদে রিপোর্ট পেশ করার সময় তা দেখানো হয় ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকা", তিওয়ারি বলেন।

ইতিমধ্যেই টুজির স্পেকট্রাম বণ্টনের প্যানেল রিপোর্ট নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন পাবলিক অ্যাকাউন্ড কমিটির চেয়ারম্যান ও বিজেপি নেতা মুরলী মনোহর যোশী। টুজি বণ্টন নিয়ে ক্যাগের রিপোর্টেকে লঘু করার জন্য এবং নিজেদের ঘার থেকে দুর্নীতির বোঝা কমাতেই সরকার এই অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মবন্তব্য করেন যোশী। সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "গলা পর্যন্ত ডুবে থাকা দুর্নীতির অভিযোগকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এটা সরকারের শেষ প্রয়াস।" এমনকী সিএজি আধিকারিক আর পি সিং-কেও একহাত নিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, ক্যাগ এ থাকাকালীন কেন এই অভিযোগ করেননি তিনি? তাঁর দাবি, "অবসর গ্রহণের পরে এই অভিযোগ আনার একমাত্র উদ্দেশ্য ক্যাগ এবং পিএসির বিরুদ্ধে কুত্‌সা রটানো।" কংগ্রেসের তদন্তের দাবিকে 'অযৌক্তিক' বলে উড়িয়ে দেন তিনি।

স্পেকট্রাম নিয়ে সিএজি রিপোর্টে তাঁকে সই করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করলেন সিএজির পোস্ট অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনের প্রাক্তন ডিজি আর পি সিং। তাঁর অভিযোগ, রিপোর্টের তথ্য নিয়ে একমত না হলেও সিএজি সদর দফতরের ওই বিতর্কিত রিপোর্টে তিনি সই করতে বাধ্য হন।

তাঁর দাবি, ২০১১-র ২২ এপ্রিল, গুড ফ্রাইডের দিন সংসদের পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মুরলী মনোহর যোশীকে টুজির স্পেকট্রাম বণ্টন নিয়ে প্যানেল রিপোর্ট তৈরিতে সাহায্য করতে তাঁর বাড়িতে যান সিএজির আধিকারিকরা। ওই দিন দুপক্ষের মধ্যে কী আলোচনা হয় তা নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গেছেন আর পি সিং।

এপ্রিল ৩০-এ ওই প্যানেল রিপোর্ট সংসদে জমা পড়ে। ওই রিপোর্টে নাম ছিল প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম এবং অ্যাটর্নি জেনারেল জি ই ভানাভাটির। টু জি নিয়ে ক্যাগের রিপোর্টকে প্রভাবিত করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন আর পি সিং।

 







Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।