শ্রীনি পালা `শেষ হইয়াও হইল না শেষ`

শ্রীনি পালা `শেষ হইয়াও হইল না শেষ`

শ্রীনি পালা `শেষ হইয়াও হইল না শেষ`ভাঙলেন তবুও মচকালেন না। খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েও শেষপর্যন্ত গদি বাঁচিয়েই ফেললেন শ্রীনিবাসন। শুধুমাত্র স্পটফিক্সিংকাণ্ডের তদন্ত যতদিন চলবে, ততদিন তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তাঁর স্থানে ততদিন অন্তর্বতীকালীন সভাপতি হিসাবে বোর্ডের দায়িত্ব সামলাবেন জগমোহন ডালমিয়া।

চূড়ান্ত তামাশায় পৌঁছে যাওয়া চেন্নাইয়ের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শেষে স্বস্তি পেয়ে হোটেলের পিছনের দরজা দিয়ে পালালেন শ্রীনিবাসন। যাওয়ার আগে বলে গেলেন তাঁর বিরুদ্ধে বোর্ডের কেউই কোনও কথা তোলেননি বৈঠকে।

কেমন দিলাম! বৈঠকের পর এরকমই ভাবভঙ্গি ছিল শ্রীনিবাসনের। কারন,শ্রীনিবাসন সরে দাঁড়ালেও আসলে তিনিই হত্তাকত্তা বিধাতা!! ডালমিয়া স্রেফ অন্তর্বর্তী সভাপতি! পদত্যাগ করলেন না শ্রীনিমহাশয়! অর্থাত্ সাপও মরল,লাঠিও ভাঙল না।

অন্যদিকে বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে প্রাক্তন বোর্ড সভাপতি আইএস বৃন্দা জানালেন তিনি ছাড়া কেউই নাকী শ্রীনিবাসনের অপসারণের দাবি জানাননি বৈঠকে।

অন্যদিকে, জগমোহন ডালমিয়া বোধহয় দেখিয়ে দিলেন `এভাবেও ফিরে আসা যায়`। এক সময় যাঁর অঙ্গুরীহেলনে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব আবর্তিত হত তিনিই নিজের রাজ্যের ক্রিকেট বোর্ডের থেকেও অপসারিত হয়েছিলেন। কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে ফের দখল করলেন বাংলার ক্রিকেটের তখত। এক ঘরে হয়ে গিয়েও ফিরে দাঁড়ালেন দুরুন্ত ভাবে। তাঁর বিরুদ্ধে স্বৈরাচার আর দুর্নীতির অভিযোগ বেঁচে থাকলেও আপাতত অপ্রাসঙ্গিক। আইপিএল গড়াপেটার জেরে টালমাটাল পৃথিবীর ধনীতম ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ার আপাতত তাঁর দখলে।

অন্তর্বতীকালীন সভাপতি হয়েই ডালমিয়া ঘোষণা করলেন তাঁর প্রথম কাজই হবে ভারতীয় ক্রিকেটকে দূর্নীতি মুক্ত করা। তবে তিনি মুখে যাই বলুন না কেন বিসিসিআইয়ের সাইনিং অথোরিটি কিন্তু রয়ে গেলেন সেই শ্রীনিবাসনই। তাই এবারে বিসিসিআইয়ের কুর্শিতে ডালমিয়ার অভিষেক কতটা ফলপ্রসূ হল সে নিয়ে কিন্তু প্রশ্নচিহ্ন রয়েই গেল।

গতকাল চেন্নাইয়ে হল আড়াই ঘন্টার যাত্রা পালা। যাত্রার ঢঙে উচ্চস্বরে ডায়লগ বলা। ঝগড়াঝাটি।আবার মান ভাঙানো। এককথায় বোর্ডের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের নামে চূড়ান্ত তামাশা। আর তামাশা শেষে ফলাফল-`শ্রীনি হঠাও`পালা শেষ হয়েও হইল না শেষ।

যতদিন স্পটফিক্সিংকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চলবে,ততদিন তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেননা। তাতে আর কি হল! তদন্তে যে শ্রীনিবাসনের মত মহীরুহকে সরানো কঠিন, তা মনে করেন বোর্ডের অনেক কর্তাই। আর সেপ্টেম্বরে বোর্ড নির্বাচনে আবার সভাপতির চেয়ারে শ্রীনিবাসনের ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রবল। হাতে তো মাত্র চার মাস। তাতে কত কিছুই না বদলে যাবে! যেমনটা বদলে গেল গত চব্বিশ ঘন্টায়। খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে শেষপর্যন্ত গদি বাঁচিয়ে ফেললেন শ্রীনি।

 

First Published: Monday, June 03, 2013, 11:35


comments powered by Disqus