সিঙ্গুর কাণ্ড, পঞ্চায়েত আইন সংশোধন নিয়ে বিতর্কে সুব্রত

Update: June 26, 2012 22:57 IST

সিঙ্গুর আইন নিয়ে রাজ্যপালের গতকালের মন্তব্যের জেরে শুরু হয়েছে বিতর্ক, তরজা। রাজ্যপাল এম কে নারায়ণন আজও বলেছেন, তাঁকে যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল সেই মতোই তিনি চলেছেন। তিনি সরকারের কথাতেই সহমত পোষণ করে বিলে সই করেছিলেন। ফলে গতকালের পর আজ ফের রাজ্যপালের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গেল, রাজ্য সরকারই তাঁকে বুঝিয়েছিল সিঙ্গুর বিলের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সই দরকার নেই।

এ প্রসঙ্গে পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, রাজ্যপাল এমন কথা বলতে পারেন না। সুব্রতবাবুর এই মন্তব্যের পর পাল্টা কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। তাঁর বক্তব্য, এখন এসব কথা শুনতেই চাইছেন না সুব্রতবাবুরা।

শুধু সিঙ্গুর বিতর্ক নয়, পঞ্চায়েত আইন সংশোধনের সরকারি উদ্যোগকেও কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা। সরকার পরিচালনার এক বছরের মাথাতেই পঞ্চায়েত আইন পরিবর্তন করতে চলেছে রাজ্য সরকার। পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরেই যে সেই কাজে হাত দেওয়া হবে, জানিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। ১০০ দিনের প্রকল্পে বাস্তবে কতদিনের কাজ হয়েছে তা নিয়েও বিতর্কে জড়িয়েছে সরকার এবং বিরোধী শিবির।

২০০৮-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনেই প্রথম বাম দুর্গে আঘাত হেনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এখন সেই পঞ্চায়েত নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিতর্কের মুখে পড়তে হচ্ছে তৃণমূল সরকারকে। বদল করতে হয়েছে মন্ত্রী। এবার পঞ্চায়েত আইনেরও বেশ কিছু বদল চান মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

এর মধ্যে অবশ্য নতুন কিছু দেখতে নারাজ   সূর্যকান্ত মিশ্র। বরং বিরোধী দলনেতা সরব সরকারের পঞ্চায়েত পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে। এ বছর ১০০ দিনের কাজ কতটা হয়েছে তা নিয়েও বিতর্কে জড়িয়েছেন সরকার এবং বিরোধী শিবির। নিয়ম অনুযায়ী ২০১৩ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত ভোট এগিয়ে আনা হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও এদিন সরাসরি এই প্রশ্নের উত্তর দেননি সুব্রতবাবু।

Post Your Comment

Total Comments:2

Hon,ble Governor did not say this after the single bench judgement of Ld. Calcutta High Court

The man with no principle is called Subrata Mukhopadhyay.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।