আমি জীবনকে ভালবাসি: ইরম শর্মিলা চানু

Update: March 4, 2013 09:18 IST

আত্মহত্যার চেষ্টার 'অপরাধে' ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় মণিপুরের সমাজকর্মী ইরম শর্মিলা চানুর বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করল দিল্লির একটি আদালত। দিল্লির যন্তর মন্তরে শর্মিলা চানুর অনশন প্রতিবাদকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এই মামলায় ইরম শর্মিলাকে দিল্লির আদালতে পেশ করা হয়। বিচারপতি তাঁকে দোষ স্বীকার করতে বললে তিনি তা অস্বীকার করেন। যানান তিনি জীবনকে ভালবাসেন। আত্মহত্যা করার কোনও ইচ্ছাই তাঁর নেই। আজ আদালতে তিনি বলেন ''আমার অনশন আফস্পার বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন।''

বিতর্কিত আফস্পা আইন প্রত্যাহারের দাবিতে গত ১২ বছর ধরে অনশন-আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন মণিপুরের প্রতিবাদী এই মহিলা। দুহাজার সাল থেকে অসম রাইফেলসের জওয়ানদের হাতে ১০ জন সাধারণ মণিপুরী মানুষের মৃত্যুর প্রতিবাদে আমরণ অনশনে বসেন শর্মিলা।  তাঁকে নাকে নল দিয়ে জোর করে খাওয়ানো হচ্ছে দীর্ঘ এক যুগ ধরেই। আজও চলছে তাঁর আন্দোলন।

আজ শর্মিলার তর্কের জবাবে আদালত জানিয়েছে, "আমরা আপনাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আমরা আপনাকে আত্মহত্যার অনুমতি দিতে পারি না।" তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন কি না, তা নিয়ে আদালত ইলমকে প্রশ্ন করলে, তিনি সাফ জানিয়ে দেন 'না'। তবে মণিপুরের এই প্রতিবাদী তরুণী জানিয়েছেন তিনি বিশ্বাস করেন তাঁর আন্দোলন সাফল্য পাবেই। 

এদিন পাটিয়ালা হাউস কোর্টে যখন মামলার শুনানি চলছে, তখনও শর্মিলার সমর্থকরা আদালত চত্বরে বাইরে প্রতিবাদ দেখাচ্ছিলেন। তাঁদের গলায় ছিল শর্মিলার পক্ষে ও আফসপার বিরোধিতার সুর।  









Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।