ছাড়া পেলেন সুশান্ত ঘোষ

Update: February 6, 2012 11:28 IST

সুশান্তবাবুকে স্বাগত জানাতে আলিপুর সংশোধনাগারে যান বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র সহ সিপিআইএমের বহু নেতা। সংশোধনাগারে যান তাঁর স্ত্রী করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সুশান্ত ঘোষকে স্বাগত জানাতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই আলিপুর সংশোধনাগারে ভিড় করেন অসংখ্য বাম কর্মী ও সমর্থকেরা। হাজির ছিলেন এসএফআইয়ের বহু নেতা ও ছাত্রও। এদিন সকালেই মেদিনীপুর আদালত থেকে জামিনে মুক্তির ছাড়পত্র তৈরি হয়ে যায়। আলিপুর সংশোধনাগারে গিয়েছিলেন সিপিআইএম নেতা রবীন দেব, অমিতাভ নন্দী, সুজন চক্রবর্তীও। জেল থেকে বেরিয়ে এমএলএ হস্টেলে রওনা হন সুশান্তবাবু। "সুপ্রীমকোর্টের নির্দেশে মুক্তি পেয়ে ভালো লাগছে, দল যা বলবে সেই অনুযায়ী কাজ করব" বললেন সুশান্ত ঘোষ।

গত শুক্রবার বেনাচাপড়া কঙ্কাল কাণ্ডে অভিযুক্ত সুশান্ত ঘোষের জামিন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলতামাস কবির ও বিচারপতি জ্ঞানসুধা মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ। জামিন পেলেও, সুশান্ত ঘোষের গতিবিধিতে শর্ত আরোপ করেছে শীর্ষ আদালত। অঞ্চলের বিধায়ক হওয়ার জন্য গড়বেতা অঞ্চলে যাওয়ার অনুমতি মিললেও, পশ্চিম মেদিনীপুরের অন্যান্য অঞ্চলে যেতে পারবেন না তিনি। এছাড়াও, তদন্তকারী অফিসারের কাছে মাসে একবার হাজিরা দিতে হবে তাঁকে।

২০১১ সালের ৯ই জুন বেনাচাপড়া কঙ্কালকাণ্ডের তদন্তভার দেওয়া হয়েছিল সিআইডিকে। সিআইডির তদন্ত এবং ঘটনার অগ্রগতির ভিত্তিতে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ। কলকাতা হাইকোর্ট সেই আবেদন গ্রহণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজিরা দিতে বলে তাঁকে। ২০১১ সালে ১১ অগস্ট মেদিনীপুর আদালতে হাজিরা দেন সুশান্ত ঘোষ। আদালতের নির্দেশে সেইদিনই তাঁকে সিআইডি হেফাজতে পাঠানো হয়। সিআইডি হেফাজতে থাকাকালীনই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল এসএসকেএম হাসপাতালে।

এরই মধ্যে, তাঁর কলকাতার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া ৫ লক্ষ টাকার ভিত্তিতে আলাদাভাবে একটি মামলা দায়ের করে কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগ। ২০১১-র নভেম্বরে আলিপুর আদালতে সেই মামলায় সহজেই জামিন মিলে যায় সুশান্ত ঘোষের। কিন্তু মেদিনীপুর আদালতে বেশ কয়েকবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও বেনাচাপড়া কঙ্কালকাণ্ডে তাঁর জামিন মেলেনি। পরে, ২৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টেও তাঁর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হয়। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা আদালতে বেনাচাপড়া কঙ্কালকাণ্ডের চার্জগঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে।







Post Your Comment

Total Comments:6

PURATON KHABOR DILEN KENO?

Susanta babu chara pabar janne ami khub grabito o 24 ghanta ke janai amar antorik subecha o avinondon.

Susanta babu chara pabar janne ami khub grabito o 24 ghanta ke janai amar antorik subecha o avinondon.

sushanta babu amader khubi kacher manush.tini chara pechen ei news ta sune amra sabai anandit.

sushanta babu amader khubi kacher manush.tini chara pechen ei news ta sune amra sabai anandit.

sudhu Sushanta Ghosh noi sudhu konkal kando noi.... agamee dine erokom aro anek bamponthee neta kormi ke anek kande jorano hobe. fascist shoktir etai kaida..

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।