আদালতের চোখে ঘাতক বাবা-মা এখন ঘুম হারা, জেলে কাজের পারিশ্রমিক ৪০ টাকা

Last Updated: Wednesday, November 27, 2013 - 15:40

সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত তাদের ঘাতক বাবা-মা হিসাবে রায় দিয়েছে। সেই ঘাতক বাবা-মা রাজেশ তলোয়ার, নুপূর তলোয়ার জেলের গারদে ইনসোমনিয়ায় ভুগছেন। তলোয়ার দম্পতির চোখে ঘুম নেই। যা নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়েছে দশনা জেল কর্তৃপক্ষ। জেলের সুপার ভিরেশ রাজ শর্মা বললেন, তলোয়ার দম্পতির দু চোখের পাতা এক করছেন না। ওদের চোখেমুখে উদ্বেগের ছবি পরিষ্কার ধরা পড়ছে।

এদিকে, জেলের নেডিক্যাল টিমে কাজ করবেন রাজেশ তলোয়ার, আর জেলে বন্দি মহিলা ও তাদের শিশুদের পড়াবেন নুপুর। দাঁতের ডাক্তারী করে লক্ষাধিক টাকার মালিক রাজেশ ও তাঁর স্ত্রী নুপূরের দৈনিক পারিশ্রমিক ৪০টাকা ধার্য করা হয়েছে। রাজেশ, নুপুর জেলের আলাদা আলাদা সেলে আছেন।

আজ সকালে দুজনে উকিলের সঙ্গে সাক্ষাত্‍ও করতে চান। গতকাল কোর্টে নিয়ে যাওযার সময় ডাক্তারি পরীক্ষা দেখা যায় দুজনেরই ব্লাড প্রেসার বেশ হাই, দুজনেই বিশ্রামের পরামর্শও দেওয়া হয়। কিন্তু তলোয়ার দম্পতি তো ঘুমতোই পারছেন না। এরকম চললে আমাদের ডাক্তার ডাকতে হবে, এরকমই জানালেন জেলের সুপার।

গতকাল সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত তলোয়ার দম্পতিকে তাঁদের একমাত্র সন্তান আরুষিকে হত্যার অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দণ্ডিত করে।
সিবিআই আরুষির বাবা-মায়ের মৃত্যুদণ্ডাদেশ চাইলেও তা দেয়নি আদালত। আদালতের মতে, এই অপরাধ বিরলের মধ্যে বিরলতম নয়। ফলে সিবিআইয়ের আর্জি খারিজ হয়ে যায়। রাজেশের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় খুন, ৩৪ নম্বর ধারায় একই উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া, ২০১ ধারায় তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং ২০৩ ধারায়--মিথ্যা এফআইআর দায়েরের অভিযোগ আনা হয়েছিল। গতকালই দু`জনকে দোষী সাব্যস্ত করে বিশেষ সিবিআই আদালত। সিবিআইয়ের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ তলোয়ার দম্পতি। যে অপরাধ তাঁরা করেননি সেই অপরাধেই তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজেশ ও নুপূর তলোয়ার। সিবিআই আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে এলাহাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করবেন তলোয়ার দম্পতি।

সিবিআই আদালতের রায়ে খুশি নন আরুষির বান্ধবী ফিজা ঝা। তাঁর মতে সঠিক বিচার পাননি তলওয়ার দম্পতি। এর জন্য পুলিসের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, হাইকোর্টের যাওয়ার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তলওয়ার দম্পতি।

পাপ কাউকে ছাড়ে না। পাপের ফল ভুগছেন তলওয়ার দম্পতি। রায়ের পর মন্তব্য প্রাক্তন সিবিআই ডিরেক্টর যোগিন্দর সিংয়ের। তলোয়ার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিলেও আহামরি কিছু হত না বলে মন্তব্য করেন প্রাক্তন সিবিআই ডিরেক্টর।

অভিযোগ, পরিচারক হেমরাজের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলাতেই আরুষি তলোয়ারকে খুন করেন তলোয়ার দম্পতি। তবে আরুষির বাব-মা এই অভিযোগ খারিজ করে দেন। প্রথমে উত্তরপ্রদেশ পুলিস এই ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও পরে সিবিআই হাতে চলে যায় এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার।

এই মামলা নিয়ে জটিলতা কম হয়নি। ২০১২ সালের ১১ জুন তলোয়ার দম্পতিকে মূল অভিযূক্ত করে এই মামলার বিচারপর্ব শুরু হয়।



First Published: Wednesday, November 27, 2013 - 15:40


comments powered by Disqus