টিআরএস নেতার গ্রেফতারিতে জোড়াল হচ্ছে তেলেঙ্গানা আন্দোলন

Update: January 27, 2013 14:17 IST

পৃথক রাজ্যের দাবিতে কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়াতে তেলেঙ্গেনা রাষ্ট্র সমিতির নেতা কেটি রামা রাওকে গ্রেফতারের বিরোধিতায় ৩৬ ঘণ্টার অনসনে বসতে চলেছে তেলেঙ্গানা জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি(টিজেএসি)। তবে আন্দোলনকারীদের অনশনের অনুমতি দিতে নারাজ প্রশাসন। টিজেএসি-র তরফে জানানো হয়েছে পুলিসের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই তারা অনশনে যাবেন।

গত কয়েকদিন ধরে প্রতিবাদ আর আন্দোলনে জেরবার গোটা রাজ্য। যার জেরে অন্ধ্র বিধানসভা, রাজভবন এবং রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ির আশেপাশে নিরাপত্তা আঁটসাঁট করা হয়েছে। ইন্দিরা পার্কে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে টিজেএসি। টিআরএস, বিজেপি, সিপিআই এর মতো দলগুলির ওই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা।

ফলত স্পষ্ট, এখনই কাটছে না তেলেঙ্গানা জট। অন্ধ্র প্রদেশের দায়িত্বে থাকা এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক গুলাম নবি আজাদ ইঙ্গিত দিয়েছেন পৃথক রাজ্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও খানিকটা সময় লাগবে। আজাদ বলেন, "আমার মনে হয় না এক মাস যথেষ্ট। আগামিকালের অর্থ একেবারে `কাল সকাল`। এমনটা হতে পারে না।" যদিও এই অচলাবস্থার দ্রুত সমাধান চান স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্বই। কংগ্রেস সাংসদ মধু ইয়সকি বলেন, "আমরা আমাদের লোকসভা কেন্দ্রেও যেতে পারছি না।" তেলেঙ্গানা ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বকে হতাশাজনক বলে মনে করছেন নিজামাবাদের সাংসদ।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর মধ্যেও তেলেঙ্গানা ইস্যুতে দীর্ঘ বৈঠক হয়। অন্ধ্র ভাগ করা নিয়ে কংগ্রেস কোর কমিটিও বৈঠক বসবে বলে খবর। চলতি মাসের ২৮ তারিখ ঢাকায় যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডে। তার আগেই এই ইস্যুতে আরেক দফা বৈঠক করবে বসবে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। এখন দেখার শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকেই কি সমাধান সূত্র বেরোয় তেলেঙ্গানা সমস্যার?

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।