ভয় কাটেনি দুবরাজপুরের, আজ ঘটনাস্থলে বিরোধীরা

Update: November 7, 2012 11:24 IST

গতকালের ঘটনার পর আজও থমথমে বীরভূমের দুবরাজপুরের লোবা গ্রাম। আহতদের দেখতে সিউড়ি হাসপাতালে যাচ্ছেন শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে লোবা গ্রামে যাবেন না তিনি। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতনিধিরাও আজ লোবা গ্রাম পরিদর্শনে যাচ্ছেন। সিপিআইএম, কংগ্রেস ও বিজেপির প্রতিনিধিরা আজ লোবা গ্রামে যাবেন।

মঙ্গলবার বীরভূমের দুবরাজপুরে প্রথমে গুলি চালনার কথা অস্বীকার করলেও পরে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গুলি চালানোর ঘটনা কার্যত স্বীকার করে নেয় রাজ্য সরকার। তবে ঘটনায় বেশ অসন্তুষ্ট হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে। বীরভূম জেলার এসপিকে ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

মঙ্গলবার বীরভূমে জমি আন্দোলন ঠেকাতে চলায় পুলিসের গুলি। গুলিতে জখম হয়েছেন ৬ জন গ্রামবাসী। আহতদের সকলকেই স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঁদের মধ্যে দু`জনের অবস্থা সঙ্কটজনক। মহাকরণে স্বরাষ্ট্রসচিব অবশ্য পুলিসের গুলি চালানোর ঘটনা অস্বীকার করেন।

দুপুরে দুবরাজপুরে পুলিস-গ্রামবাসী সংঘর্ষের কথা স্বীকার করে নিলেও মহাকরণে দাঁড়িয়ে পুলিসের গুলি চালনার ঘটনা অস্বীকার করেন স্বরাষ্ট্রসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী হাসপাতাল থেকে পাওয়া মেডিকাল রিপোর্টেও `বুলেট ইনজ্যুরি`র উল্লেখ নেই বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে ২৭ জন পুলিসের আহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এর থেকেই বোঝা যায় যে পুলিস যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে।" তাহলে পুলিস কীভাবে গ্রামবাসীদের আক্রমণ মোকাবিলা করল? সাংবাদিকের এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর মিলল না স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছ থেকে। তার কিছুক্ষণ আগেই ২৪ ঘণ্টার পক্ষ থেকে যখন বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় তিনি বলেন, দুবরাজপুরে পুলিস গুলি চালিয়েছে। ঘটনাটি সমর্থনযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে স্বরাষ্ট্রসচিবের সাংবাদিক বৈঠকের পরেই ১৮০ ডিগ্রি অবস্থান পরিবর্তন করেন শতাব্দী দেবী। মহাকরণে বাসুদেব বাবুর মন্তব্যের পরে সাংসদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি জানি গুলি চলেনি।"

দুবরাজপুরে পুলিস আচমকা কেন গুলি চালালো সে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রসচিব অস্বীকার করলেও পুলিসই এদিন গুলি চালিয়েছে বলে দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি করেছে প্রদেশ কংগ্রেস।

বীরভূমের দুবরাজপুরের লোবা গ্রামে কয়লা উত্তোলন প্রকল্প ঘিরে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে অসন্তোষ জমছিল অনেকদিন ধরেই। দীর্ঘদিন ধরে কয়লা উত্তোলন প্রকল্প ঘিরে ওই এলাকায় উত্তেজনাও বাড়ছিল। সরকারের তরফ থেকে একটি বেসরকারি সংস্থাকে ওই জমি লিজ দেওয়া হয়। কিন্তু জমির দাম নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন গ্রামবাসীদের একাংশ। ভূমিরক্ষা কমিটির নামে আন্দোলন শুরু করেন তারা। আটকে রাখেন বেসরকারি সংস্থার কয়েকটি মেশিন। আজ সকালে মেশিনগুলি বার করতে যায় পুলিস। তার আগেই গ্রামে ঢোকার রাস্তা কেটে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। পুলিসের সঙ্গে বচসা বাধে গ্রামবাসীদের। পরে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে দুপক্ষের। অভিযোগ, পুলিস গুলি চালায়। আহত গ্রামবাসীদের প্রথমে সিউড়ি হাসপাতাল ও পরে বর্ধমান মেডিকাল কলেজে ভর্তি করা হয়।

অন্যদিকে, গ্রামবাসীদের ছোঁড়া তির ও ইঁটের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিসকর্মীও আহত হয়েছেন। পুলিসের বেশ কয়েকটি জাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ।

Post Your Comment

Total Comments:3

IDEAL INDIAN PARLAMENTARIAN

IDEAL INDIAN PARLAMENTARIAN

2nd nandigram karlo didir sarkar.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।