ফ্লপ শো-এর নজির গড়ে হলদিয়াতে বিশিষ্টরা

ফ্লপ শো-এর নজির গড়ে হলদিয়াতে বিশিষ্টরা

ফ্লপ শো-এর নজির গড়ে হলদিয়াতে বিশিষ্টরাবহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া! পরিস্থিতির সরেজমিনে তদন্ত করতে তৃণমূলপন্থী বুদ্ধিজীবীদের হলদিয়া সফরের চিত্র দেখে এ কথাই মনে আসে। গত দুদিন ধরে প্রচারের ঝড় তুলে তৃণমূলপন্থী বুদ্ধিজীবীরা হলদিয়ায় উপস্থিত হন। কিন্তু যে ৩০ জন হলদিয়ায় উপস্থিত হয়েছিলেন, তাঁদের পরিচয় এবং সফরের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় লাঘব হয়ে যায় সফরের গুরুত্ব।

গত তিন বছর ধরে রাজ্যের প্রথম সারির যে বুদ্ধিজীবীদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল, তাঁদের একজনকেও আজ হলদিয়ায় দেখা যায়নি।

সামনে পুলিসের পাইলট। পিছনে কনভয়। কিন্তু সেই কনভয় থেকে যাঁরা নামলেন, তাঁরা কারা? তাঁদের পরিচয় না করিয়ে দিলে সাধারণের পক্ষে চেনা মুশকিল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে প্রসূন ভৌমিক। তিনি একটি লিটল ম্যাগাজিনের কর্মী। সঙ্গে পত্রলেখক পাচু রায়। ছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি আর এন রায়। প্রতিনিধি দলের সদস্য এক আইনজীবীও। তাঁর নাম জয়দীপ মুখার্জি। সঙ্গে অধ্যাপক অমিয় চৌধুরী। এঁদের দেখে কিছুটা থমকে যান এবিজির কাজ হারানো শ্রমিকরাও।

ফ্লপ শোর একটা দিক যদি এটা হয়, তাহলে আরেকটা হল পরিকল্পনার প্রথম ভাগেই গলদ। অভিযোগ, বন্দরে ঢোকার অনুমতি না নিয়েই, পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে যান তাঁরা। ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। বন্দরে ঢুকতেই পারেনি বুদ্ধিজীবীদের প্রতিনিধি দল। তাঁদের হলদিয়া ঘোরাই সার হয়েছে।

রাজ্য রাজনীতির পটপরিবর্তনের আগের চিত্রটা ছিল বেশ ভিন্ন। ২০০৮-এ লালগড় সফরে যে তৃণমূলপন্থী বুদ্ধিজীবীরা গিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন অপর্ণা সেন, জয় গোস্বামী, কৌশিক সেন, শাঁওলি মিত্র, অর্পিতা ঘোষের মতো সুপরিচিত মুখেরা। সিঙ্গুর থেকে শুরু করে, নন্দীগ্রাম, জঙ্গলমহল, সর্বত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলেন রাজ্যের একেবারে প্রথম সারির বুদ্ধিজীবীরা। `পরিবর্তন চাই` এই স্লোগান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়েছিলেন তাঁরাই। আজকে তাঁদের অনুপস্থিতিতে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে কেন ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছেন তাঁরা?

তাহলে কী যে পরিবর্তনের কথা তাঁরা ভেবেছিলেন, তার সঙ্গে আজকের অভিজ্ঞতা মেলাতে পারছেন না? সম্ভবত সেই কারণেই হলদিয়ায় তাঁদের অনুপস্থিতি।

সম্ভবত একেই বলে পর্বতের মূষিক প্রসব।





First Published: Friday, November 02, 2012, 17:49


comments powered by Disqus