কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা তৃণমূলের

Update: September 21, 2012 11:07 IST

নেত্রীর নির্দেশ মেনে আজ কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূলের ৬ মন্ত্রী। আজ বিকেল ৪ নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তাঁর হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দেন মুকুল রায়, সৌগত রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। এরপরই রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে যাত্রা করেন তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা। ইউপিএ টু সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতিকে জানাবেন তাঁরা। তবে যাচ্ছেন না দীনেশ ত্রিবেদী। তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থন প্রত্যাহার করায় কেন্দ্রীয় সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন মুকুল রায়। দিল্লি রওনা হওয়ার আগে দমদম বিমানবন্দরে তাঁর অভিযোগ, সংসদ এড়াতেই তড়িঘড়ি এফডিআই কার্যকর করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত অনৈতিক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা ছিল শেষ মুহুর্তে প্রধানমন্ত্রী বা সোনিয়া মমতাকে ফোনে হয়তো বরফ গলতে পারে। কিন্তু এবার আর মমতার চাপের কাছে পিছু হটতে চায় না কংগ্রেস। আর তাই মঙ্গলবার দলের কোর কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতো পদত্যাগ করছেন মুকুল রায়রা। এফডিআই নিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালের ১৭ডিসেম্বর তত্‍কালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় লোকসভায়, খুচরো ব্যবসায়ে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছনো না পর্যন্ত সরকার এফডিআই নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সেই বিবৃতি আজ ফেসবুকে পোস্ট করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকার তার ঘোষিত অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের এই সিদ্ধান্তকে 'দুর্ভাগ্যজনক' বলে মন্তব্য করেছেন। ১৯ জন সাংসদ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস দ্বিতীয় ইউপিএ জোট থকে বেরিয়ে আসার পর কতটা সঙ্কটে দিল্লির রাজনীতি? তৃণমূল সঙ্গ ছারলেও মুলায়ম সিংকে পাশে পাওয়ার পক্ষে আশাবাদী কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী সলমন খুরশিদ ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী পবন কুমার বনসল এদিন সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে কোনও সমস্যা হবে না বলে দাবি করেছেন। সরকার টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ৫৪৫টি আসন তাঁদের রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই দুই মন্ত্রী। তৃণমূলের বিদায়ে সরকারের অবস্থান সংখ্যালঘু হয়ে পরবে, একথা মানতে রাজি নন খুরশিদ। তিনি বলেন, "বেশকিছু রাজনৈতিক দলের সমর্থনে আমরা সংখ্যালঘু সরকার নই।"

বৃহস্পতিবারই দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন শিশির অধিকারী, সুলতান আহমেদরা। আজ গেলেন মুকুল রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। সমর্থন প্রত্যাহার ও মন্ত্রিসভা ছেড়ে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতেই কংগ্রেস-তৃণমূলের তিনবছরের শরিকি সম্পর্কের ইতি ঘটল আজই। 







Post Your Comment

Total Comments:8

দিদির এতে লাভই হোলো । রেলের বিপুল পরিমাণ শেষ না হওয়া এবং শিলন্যাস করা প্রহসন এর জন্যে ভালো অজুহাত পেয়ে গেলেন ...... :-P

Very right

Asob ki hochhe Anjan da? ``সরকার টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ৫৪৫টি আসন তাঁদের রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই দুই মন্ত্রী`` !!!!!!! editor ra ki drafting er por r checking korena ????? kindly revised it.

Sathik siddhanto newar jonno dhanya bad.

Desher nanan sankat niye Dan , Bam o Ramer lorai , vinno mot cholche cholbei, kintu keno janina mone hochhe PaschimBongo anek pichiye gelo.....

Well, well, well, Now at least Mamata can`t dictate what should be implemented what not. She don`t find the necessity of FDI in her state it`s O.Key. but why contemplating for other states in the same way? She is not PM.

sir Didir Railway vison 1220 ki hobe.tachara anek khati habe Bengal r.

http://www.facebook.com/photo.php?fbid=360198920723874&set=a.128253063918462.31259.128228117254290&type=1&theater

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।