তামিল ইস্যুতে কেন্দ্রকে সমর্থন তৃণমূলের

Last Updated: Wednesday, March 20, 2013 - 22:38

শ্রীলঙ্কায় নির্যাতিত তামিলদের জন্য গভীর উদ্বেগে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আজ দলের তরফে এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে বিবৃতিতে উল্লেখ করা  হয়েছে, বিদেশি রাষ্ট্র্রের সঙ্গে সম্পর্কের ইস্যু জড়িত রয়েছে এমন বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করাই দলের নীতি। সুতরাং তামিল ইস্যুতে কি করা হবে তা কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরেই ছেড়ে দিতে চায় দল।  বিদেশি রাষ্ট্রের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হলে কেন্দ্রকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট রাজ্য এবং সেখানকার বাসিন্দাদের মনোভাবের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তামিল ভাইবোনেদের ইস্যু সমর্থন করে দল। একটি বিদেশি রাষ্ট্রে তামিলদের একাংশের ওপর যে নির্যাতন চলছে দল সেনিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানানো হয়েছি বিবৃতিতে।
এদিকে শ্রীলঙ্কা সরকারের বিরুদ্ধে আমেরিকার আনা প্রস্তাব নিয়ে আগামীকাল জেনেভায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদে ভোটাভুটি হওয়ার কথা।আমেরিকার আনা প্রস্তাবে ডিএমকে-র দাবি মতো কড়া সংশোধনী আনার বিষয়ে সরকারের মধ্যে মতভেদ এখনও মেটেনি। এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে আজ বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সংসদে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনার আগে আলোচনার জন্য আজ সন্ধেয় সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন লোকসভার অধ্যক্ষ মীরা কুমার।
যদিও, সর্বদল বৈঠকে কোনও ঐকমত্য হয়নি। 
শ্রীলঙ্কা ইস্যুতে রাষ্ট্রসঙ্ঘে কড়া অবস্থান নেবে ভারত। ডিএমকের চাপে বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম। করুণানিধি সমর্থন তুলে নিলেও তাঁকে আবার ইউপিএ জোটে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস। ফলে, শ্রীলঙ্কা ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিয়ে কলাইনারের মান ভাঙাতে চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না দলের ক্রাইসিস ম্যানেজাররা।
যদিও, রাষ্ট্রসঙ্ঘে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আনা মার্কিন প্রস্তাবে ডিএমকে-র দাবি মতো কেন্দ্র শেষপর্যন্ত কী সংশোধনী আনবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। সরকারের মধ্যেই একটি অংশ করুনানিধির কথা মেনে নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে কড়া প্রস্তাব আনার পক্ষে। তারা চান, শ্রীলঙ্কা সেনা ও সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকুক ওই প্রস্তাবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত ও গণহত্যা শব্দটির উল্লেখও থাকুক সেখানে। এবং এই মর্মেই তৈরি হোক সংশোধনী। যদিও, আন্তর্জাতিক কূটনীতির স্বার্থে সরকারের অন্য একটি অংশ আবার শ্রীলঙ্কা সরকারকে চটাতে রাজি নয়। তাঁরা শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসঙ্ঘে মধ্যপন্থা বজায় রাখতে আগ্রহী। সরকারের এই অংশটি নিন্দা প্রস্তাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিকে গণহত্যায় বদলে দিতে চান না।
ডিএমকে-র মন রাখতে সরকার বাজেট অধিবেশনের প্রথমার্ধেই শ্রীলঙ্কা ইস্যুতে সংসদে প্রস্তাব আনতে চায়। যদিও, ডিএমকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তারা সংসদ নয়, তাকিয়ে রয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদের দিকে। এ ক্ষেত্রেও সরকার দেরি করে ফেলেছে বলে মনে করছে তারা। ডিএমকে সমর্থন তুলে নেওয়ার পর সঙ্কটে কেন্দ্রের ইউপিএ সরকার। যদিও, প্রকাশ্যে তা মানতে নারাজ কংগ্রেস।
 
বুধবারই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ইস্তফা দিয়েছেন ডিএমকে-র তিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। করুণানিধির ছেলে আলাগিরি এবং দলীয় সাংসদ ডি নেপোলিয়নও ইস্তফা দেবেন বলে জানিয়েছেন ডিএমকে নেতা টি আর বালু। এ সবের মধ্যেই ডিএমকে প্রধান করুণানিধি বুধবার ফের জানিয়েছেন, তামিলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে শ্রীলঙ্কা সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসঙ্ঘে প্রস্তাব আনতে হবে কেন্দ্রকে।
সে খানে থাকতে হবে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থাকে দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্তের সংস্থানও। সংসদেও এই মর্মে প্রস্তাব আনার দাবি জানিয়েছেন করুণানিধি। রাষ্ট্রসঙ্ঘে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রস্তাবে সংশোধনী আনা নিয়ে বুধবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। ছিলেন, জেনিভায় মানবাধিকার পরিষদে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি দিলীপ সিনহাও। শ্রীলঙ্কা ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের রাষ্ট্রসঙ্ঘে কড়া অবস্থান গ্রহণের দাবিতে বুধবার চেন্নাইতে বিক্ষোভ দেখান ছাত্ররা।



First Published: Wednesday, March 20, 2013 - 22:38


comments powered by Disqus