স্বাধীনতার মঞ্চে আমরা-ওরা

Update: August 15, 2012 22:47 IST

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যপাধ্যায়ের প্রথম স্বাধীনতা দিবসে জাতীর উদ্দেশ্যে ভাষণ। আর সেখানেও প্রকাশ্যে চলে এল কেন্দ্র- রাজ্য বিভেদের সম্পর্কটা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে একের পর এক তোপ দাগেন দিল্লির বিরুদ্ধে। সারের দাম বৃদ্ধি, বিপিএল কার্ড বন্টন ও জাতীয় সড়ক নির্মান সংস্থা সহ একাধিক বিষয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মুখর হয়েছেন তিনি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা কেন্দ্রের অন্যতম শরিক তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাটাক্ষে যথেষ্ঠই ক্ষুব্ধ কংগ্রেস।

স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বাড়তে থাকা সারের দামের জন্য মূলত কেন্দ্রীয় সরকারকেই দায়ী করেছেন। কেন্দ্র বেশ কিছু সংস্থাকে সারের দাম বাড়ানর সুযোগ করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ আনেন তিনি। বিপিএল কার্ড বণ্টণশুরু না হওয়ার জন্য কেন্দ্রকে এক হাত নিয়েছেন নেত্রী। তিনি বলেন, "অনেকে বিপিএল কার্ড পাচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করছি তাড়াতাড়ি কাজটা করার জন্য"। সেই সঙ্গে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন জাতীয় সড়ক নির্মাণ সংস্থা ঠিক করে রাজ্যে কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতার সমালোচনাকে মোটেই ভালো চোখে দেখছেনা প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য মমতার মন্তব্যের পতিক্রিয়ায় বলেন, "উনি অনাবশ্যক ও অন্যায় ভাবে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করছেন।" সেই সঙ্গে প্রদীপ বাবু অনুরোধ জানান মমতাকে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা নিয়ে `মাথা না ঘামানো`র জন্য। তিনি আরও বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীসভায় থাকবেন, আবার কঠোর সমালোচনা করবেন, এজিনিস চলতে পারেনা" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংযত হওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন প্রদীপ বাবু।

রাজ্যের ধর্ষণের মতো অপরাধের সংখ্যা যে উদ্বেগজনক মাত্রায় বেড়ে গিয়েছে সেকথা কর্যত খারিজ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন ডায়ারি করা মানেই ধর্ষণের আসল সংখ্যা জানা যায় না। পাশাপাশি আগে নিগৃহীতারা পুলিসের কাছে ডায়ারি করতে পারত না বলে দাবি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন প্রদেশ সভাপতি। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রদীপ বাবু বলেন, "আগে বাংলার নারীদের সন্মান রক্ষা করুন, তার পর ভারত সরকারকে উপদেশ দেবেন"।

স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে `আমরা-ওরা` বিভেদ কংগ্রেস- তৃণমূলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


Post Your Comment

Total Comments:2

24 ghanta dhare samalochana kore cpm er vote barlo

ki kobe baccha meye chere dao .

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।