সেদিনের তাণ্ডব, আজকের সাফাই

Update: December 11, 2012 20:27 IST

ফের নজিরবিহীন ধুন্ধুমার কাণ্ডের সাক্ষী রইল বিধানসভা। এঘটনায় বিরোধী দলগুলি অভিযোগের আঙুল তুলেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। তবে এই প্রথম নয়। বিরোধী আসনে থাকার সময়েই বিধানসভায় তাণ্ডবের ইতিহাস তৈরি করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই তাণ্ডবে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এখন তিনিই মুখ্যমন্ত্রীর আসনে। 

বিধানসভা সেবার সাক্ষী থেকেছিল নজিরবিহীন তাণ্ডবের। ইস্যু ছিল সিঙ্গুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বিধানসভায় ভাঙচুর চালিয়েছিলেন তৃণমূলের বিধায়করা। বিধানসভার ভিতরে এবং বাইরে এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলে তাণ্ডব। ১১ ডিসেম্বর, ২০১২। ফের তাণ্ডবের সাক্ষী রাজ্য বিধানসভা। অধিবেশনের মধ্যেই আক্রান্ত হলেন বিধায়করা। মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় সিপিআইএম বিধায়ক দেবলীনা হেমব্রমকে। রক্তাক্ত সিপিআইএমের গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়ও। তৃণমূল কংগ্রেসেরও দুই বিধায়ক আহত হয়েছেন। অধ্যক্ষের সামনেই আক্রমণের মুখে পড়তে হল বাম বিধায়কদের। যদিও আজকের ন্যাক্কারজনক ঘটনার দায় বামেদের ওপরই চাপিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী তথা তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, "মানুষের কাছে কলকে না পাওয়ায় এখন বিধানসভায় তাণ্ডব চালাচ্ছে সিপিআইএম।" অধ্যক্ষকেও শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

কলঙ্কজনক অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি। তাই বারবারই উঠে আসছে ২০০৬-এ তৃণমূল তাণ্ডবের তুলনাও। দুটি ঘটনাতে একটাই মিল। সেবার বিধানসভায় ভাঙচুর চালায় তত্কালীন বিরোধী আসনে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস। এবারও বিধানসভায় তাণ্ডব চালান শাসকদল তৃণমূলের বিধায়করাই। তবে অমিল কোথায়? সেবার ভাঙচুর করা হয়েছিল আসবাবপত্র। এবার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বিরোধীদলের বিধায়করাই। আরও তাত্পর্যপূর্ণ সেদিন বিরোধী দলে থেকে যাঁরা বিধানসভায় ভাঙচুরের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাঁদের আজ অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। 
 
৩০নভেম্বর ২০০৬ না ১১ ডিসেম্বর, ২০১২? কোন ঘটনা বেশি কলঙ্কজনক? শুরু হয়েছে বিতর্ক। তবে যেখানে সরকারপক্ষের বিধায়করা একযোগে বিরোধীদলের মহিলা বিধায়ককে মাটিতে ফেলে মারধর করেন, সেই ঘটনা যে কতটা ন্যক্কারজনক তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা।  

Post Your Comment

Total Comments:3

BANGLAR MOMBATIWALA SAI SUSIL SAMAJER SUSILRA AJJ KOTHAI? TARA KI EKHON CHOKHE THULI PORA AAR KANE TULO DIA CHUP CHAP BOSE THAKBEN? TADER BIBEK AJJ DONGSACHENA?

Trinomul Congress has a tradition of doing such shameful deeds. They are nothing but a team of rogues.

২০০৬ সনে মমতার বিধান সভা ভাং কারের দৃশ্য বাংলার জনগণ দেখেছে .তার পরে ও বাংলার জনগণ উনাকে মনোনীত করেছে কিন্তু সেই দিনের ঘটনা আমরা যদি ঠিক ভাবে বিচার করতাম তাহলে বাংলার জনগনের আজ বস্ত্র হীন অবস্থায় রাস্তায় ঘুরতে হত না .একমাত্র মমতা দেবীর জন্য আজ বাংলার জনগণ রাস্তায় বসে গেছে .বাংলার জনগণ সেই দিন বুজ্দে পারেনি যে একজন মহিলা এই ভাবে বাংলা নারী পুরুস সকলের এজত ভুলন্ঠিত করে দেবে .উনার নিজের কত টুকু আত্ম সন্মান আছে তা বাংলার জনগণ বুঝে গেছে .কিন্তু আজ উনার betar নির্দেশে যা ঘটনা বাংলার মানুস সখী থাকলেন ইটা অনেক যুগ ধরে মনে রাখবে .পার্থ বাবু বা অ অধ্যখ্যের কোনো ক্ষমতা নেই উনার নির্দেশ ছাড়া একটা পা এগোতে পারে .আজ উনার নির্দেশে উনার মত একজন মহিলাকে এত লোকের সামনে ইজ্জত হরণ করলেন তৃণমূলের বিধায়করা .নাহলে বিমান বাবু মুল্তুবির পরে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে কি করে ৩ জন বিধ্যককে বহিস্কারের নির্দেশ দিলেন .এসব মমতার নির্দেশে .যদি বিমান বাবু না মানতেন তাহলে আগামী কাল উনিও সভন্দেব ,বা রবীন্দ্র নাথ বাবুর মত হল হত .

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।