প্রতিশ্রুতি পালনেও পিছিয়ে ইউপিএ

Update: June 13, 2012 11:29 IST

সিদ্ধান্তহীনতার অভিযোগ তো ছিলই। এবার আরও একটি কলঙ্ক লাগল মনমোহন সরকারের গায়ে। সমীক্ষায় প্রকাশ, স্বাধীনতার পর থেকে কেন্দ্রে যতগুলি সরকার গঠিত হয়েছে, প্রতিশ্রুতি পালনের নিরিখে, দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের পারফরম্যান্সই সবচেয়ে খারাপ।

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী লোকসভা বা রাজ্যসভায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ৩ মাসের মধ্যে পালন করা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কর্তব্য। কোনও ক্ষেত্রে দেরী হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সংসদের সচিবদের কাছে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানানো যেতে পারে। তবে সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ কোনও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির কোনও বিধান ভারতীয় সংবিধানে নেই। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিশ আনা যেতে পারে। সদ্যসমাপ্ত বাজেট অধিবেশনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী গুলাম নবি আজাদ ও অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী অজিত সিংয়ের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস এনেছিলেন বিরোধীরা। আজাদের বিরুদ্ধে তাঁর মন্ত্রক সম্পর্কে একাধিকবার ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। অজিত সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল অধিবেশন চলাকালীন এয়ার ইন্ডিয়া নিয়ে তিনি সংসদের বাইরে বিবৃতি দিয়েছেন। দু`টি ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেননি স্পিকার। সমীক্ষায় প্রকাশ, দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার গত ৩ বছরে তাদের প্রতিশ্রুতির অর্ধেকও পালন করেনি।

পরিসংখ্যান বলছে, গত ৩ বছরে ৬,৬৩৪টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে মাত্র ৩,২২৬টি পালন করেছে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ২,০১৪টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১,৫২৫টি পালন করা হয়েছিল। ২০১০ সালে ২,৬৩১টি প্রতিশ্রুতির ১,৩৬৯টি পালন করা হয়েছিল। ২০১১ সালে মনমোহন সরকারের দেওয়া ২,০৮৯টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে মাত্র ২৭২টি পালন করা হয়েছে। যদিও প্রতিশ্রুতি রক্ষার নিরিখে প্রথম ইউপিএ সরকারের পারফরম্যান্স বেশ ভালো। প্রথম ইউপিএ সরকার তাদের প্রতিশ্রুতির ৯২ শতাংশেরও বেশি পালন করেছিল।

Post Your Comment

Total Comments:1

Should no Sonia Gandhi resign from Chairperson of UPA ?

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।