ইউপিএ দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে, দাবি মনমোহনের

Last Updated: Wednesday, May 22, 2013 - 21:48

''ইউপিএ সরকার দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে, কিন্তু এখনও আমাদের অনেকটা পথ যেতে হবে।'' আজ কেন্দ্রে ইউপিএ-২-এর চার বছরের বর্ষপূর্তিতে কাজের খতিয়ানের রিপোর্ট কার্ড পেশ করার সময় এমনটাই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। রিপোর্ট কার্ড পেশ করার সময় নিজের সরকারের ঢালাও প্রশংসায় মাতলেন প্রধানমন্ত্রী।
ইউপিএ-এর রিপোর্ট কার্ডে প্রথমেই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশের সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে। নিজের বক্তব্যে ভারতকে  পৃথিবীর অন্যতম ক্রমবর্দ্ধমান অর্থনীতি হিসাবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।  
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে দুর্নীতির কথাও। স্পেকট্রাম থেকে কোলব্লক বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির কথা কার্যত স্বীকার করে নিলেন তিনি। দুর্নীতি রুখতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা স্পষ্ট করে বলেননি তিনি। তবে বলেছেন, নিলামে স্বচ্ছতা আনার সবরকম চেষ্টা করেছে সরকার। দোষ প্রমাণ হলে দোষীরা যে শাস্তি পাবে তা বলেই থামতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে।
লোকপাল বিল ও আরটিএ চালু করাও সরকারের অন্যতম সাফল্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইউপিএ আবার ক্ষমতায় এলে জিডিপি গ্রোথ কাঙ্খিত ৮% ছুঁয়ে ফেলবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
চিন সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ইউপিএয়ের আমলে উন্নতি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন মনমোহন সিং।
অন্যদিকে কংগ্রেস সুপ্রিমো সোনিয়া গান্ধী তাঁর বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা করলেন বিরোধীদের। কার্যত মনমোহন সিংয়ের ঢাল হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা বিরোধীদের সব অভিযোগই উড়িয়ে দেন তিনি।
৭ রেসকোর্সে আজকে ইউপিএ-এর বর্ষপূর্তির নৈশভোজে উল্লেখযোগ্য ভাবে অনুপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের সহযোগী মুলায়ম সিং যাদব। গত বছর রিপোর্ট কার্ড পেশের সময় মনমোহন সিংয়ের পাশে ছিলেন সমাজবাদী দলের নেতা মুলায়ম সিং যাদব। তবে এবার এসপি সুপ্রিমোই কংগ্রেসের থেকে নিজেদের দূরে রাখছেন। প্রধানত একের পর এক কেলেঙ্কারি প্রকাশিত হওয়ার পরে ইমেজ বাঁচাতেই তাঁদের এই উদ্যোগ। অনুপস্থিত ছিলেন বিএসপি নেত্রী মায়াবতীও। তবে মায়াবতী নিজে না এলেও তাঁর প্রতিনিধি নৈশভোজে অংশগ্রহন করেন।
একের পর এক দুর্নীতির বোঝা মাথায় নিয়ে কিছুটা ছন্নছাড়া ভাবেই আজ দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের চতুর্থ বর্ষপূতি পালন করল কংগ্রেস। গত নবছরের সরকারের সাফল্যে খতিয়ান আজ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।
পরপর দুই দফায় ক্ষমতায় রয়েছে কংগ্রেস। প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এড়াতে তাই সম্ভবত শরিকরাও কংগ্রেস থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছে। কংগ্রেস নেতাদের মতে, একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার কারণেই চারবছরের মাথায় সরকারের হাল। বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান নিয়ে তাই বিশেষ উত্সাহ নেই কংগ্রেসের অন্দরেও। গত একবছরে ডিএমকে, তৃণমূল কংগ্রেসসহ চারটি শরিক দল ছেড়ে গিয়েছে ইউপিএ।



First Published: Wednesday, May 22, 2013 - 21:57


comments powered by Disqus