বিশ্বরূপম বিতর্ক: সমস্যা সমাধানে আলোচনায় দুই পক্ষ

Update: February 1, 2013 11:38 IST

সারা ভারতে আজ মুক্তি পেল কমল হাসানের বিতর্কিত ছবি বিশ্বরূপম। অন্যদিকে বিক্ষুদ্ধ মুসলিম নেতাদের সঙ্গে খুব শিগগিরই আলোচনায় বসতে চলেছেন কমল হাসান। আলোচনায় তামিল নাড়ুর স্বরাষ্ট্র সচিব উপস্থিত থেকে মধ্যস্থতা করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে কমল জানিয়েছেন, আমার মনে হয় না ছবির কোনও অংশ বাদ দিতে হবে। আমি আমার মুসলিম ভাইদের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলব।

বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে কমল হাসান জানালেন গোটা ঘটনায় আসলে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প `বিশ্বরূপম`-কে ঘিরে এই বিতর্ক একেবারেই অনঅভিপ্রেত বললেন প্রখ্যাত এইঅভিনেতা। আজ তিনি জানিয়েছেন গোটা ঘটনায় তিনি পীড়িত। কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা তাঁর উদ্দেশ্য নয় বলেও দাবি করলেন তিনি। তবে এর সঙ্গেই কমল হাসান আবারও জানিয়ে দিলেন ``ধর্ম নয়, আমি রাজনীতির শিকার।``

গতকালই এক সাংবাদিক সম্মেলনে তামিল নাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা জানান আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতেই তামিলনাড়ুতে `বিশ্বরূপম`-এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তার সঙ্গে সরকারের সিদ্ধান্তের সাফাই গেয়ে জয়ললিতা বলেছেন ব্যক্তিগত ভাবে কমল হাসানের সঙ্গে তাঁর সরকারের কোন বিরোধ নেই। কিন্তু রাজ্যে হিংসার পরিবেশকে আটকাতেই তাঁদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানান `আম্মাজি`। তিনি বলেন, ``চব্বিশটি মুসলিম সংগঠন আমাদের কাছে এই সিনেমাটির প্রদর্শনের বিরোধীতা করে পিটিশন জমা দিয়েছে। এই অবস্থায় আমারা বিশ্বরূপমকে ছাড়পত্র দিলে এই সংগঠনগুলির প্রতিবাদ হিংসাত্মক রূপ নিতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।`` ডিএমকে সুপ্রিমো আরও জানিয়েছেন রাজ্যে মোট ৫২৪টি প্রেক্ষাগৃহে নিরাপত্তা দেওয়ার মত লোকবল তাঁর সরকারের নেই।

অন্যদিকে `বিশ্বরূপম` বিতর্কে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মনীশ তিওয়ারি জানান, সিনেমাটোগ্রাফ আইন পুনর্মূল্যায়ন করার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। সেইসঙ্গেই কোনও রাজ্যের সরকার ঠিক কতদূর পর্যন্ত সেন্সর বোর্ডের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে সেই বিষয়ে খোঁজ নিতেও তথ্য ও সম্প্রচার সচিবকে আবেদন জানিয়েছেন।

ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতার সঙ্গে বৈঠক করে `বিশ্বরূপমের` বেশ কিছু অংশ বাদ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন কমল। কিন্তু তার পরেও তাঁর নিজের রাজ্যে তামিল নাড়ুতে সবুজ সঙ্কেত পায়নি এই ছবি।







Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।