বিষাদের আলোতে স্বাগত ২০১৩

Update: January 1, 2013 09:01 IST

বর্ষবরণে মাতল গোটা দেশ। তবে, দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডের জেরে থমকে গেল উত্‍সবের উচ্ছ্বাস। নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আগে মোমবাতি মিছিলে সামিল হল দিল্লি। বহু জায়গায় বাতিল হয়ে গেল একতিরিশে ডিসেম্বর রাতের অনুষ্ঠান। বর্ষবরণের রাতে বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়েও বারবার ফিরে এল দিল্লিকাণ্ডের স্মৃতি। 

পুরনোকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে বরণ করে নেওয়া। দুহাজার তেরোকে স্বাগত জানাল গোটা দেশ। তবে, বর্ষবরণের রাতে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে মিশে রইল বিষাদ। গণধর্ষণকাণ্ডে মৃত তরুণীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মোমবাতি হাতে পথ হাঁটল দিল্লি। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্তর-মন্তর। বছরের শেষ রাতেও উঠল দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি। সরকার-বিরোধী স্লোগান।

মুত্যুর সঙ্গে তেরো দিনের অসম যুদ্ধে হেরে যাওয়া তরুণীর জন্য শোক ? নাকি, নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা ? বর্ষবরণের রাতে দিল্লির বহু রেস্তোরাঁই ছিল খালি। প্রায় জনশূন্য কনট প্লেস। একাধিক পাঁচতারা হোটেলে বাতিল করা হয় নিউ ইয়ার পার্টি।

মায়ানগরীতেও অচেনা ছবি। বার, নাইট ক্লাব, রেস্তোরাঁয় ভিড় থাকলেও বর্ষবরণের রাতে রাস্তা ছিল প্রায় ফাঁকা। দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডে তরুণীর মৃত্যুর পর আতঙ্কিত, ব্যথিত আমচি মুম্বই।

বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা বর্ষবরণের উত্‍সবে মাতলেও বহু জায়গাতেই উচ্ছ্বাসের মাত্রা ছিল কম। দিল্লির মতো ঘটনা আর যেন না ঘটে। এই আশা নিয়েই দুহাজার তেরোকে স্বাগত জানালেন দেশবাসী।

 
 
  
   

Post Your Comment

Total Comments:1

Happy new year 1013

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।