হাজী আলি দরগায় মহিলাদের প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞা

"জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষ সন্ত পির হাজী আলি সাহ বুখারিকে প্রার্থনা জানাতে আসেন"... মুম্বই হাজী আলি দরগার ওয়েরসাইটে ফলাও করে লেখা হয়েছে কথাটি। ওপরের আপ্তবাক্যটি মেনে নিলে, `বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষের` মধ্যে তো মহিলারাও পরেন।

Updated: Nov 6, 2012, 06:55 PM IST

"জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষ সন্ত পির হাজী আলি সাহ বুখারিকে প্রার্থনা জানাতে আসেন"... মুম্বই হাজী আলি দরগার ওয়েরসাইটে ফলাও করে লেখা হয়েছে কথাটি। ওপরের আপ্তবাক্যটি মেনে নিলে, `বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষের` মধ্যে তো মহিলারাও পরেন।
প্রসিদ্ধ হাজী আলি দরগা কয়েক দশক ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের টানতে নজির গড়েছে। দক্ষিণ-মধ্য মুম্বইয়ে আরব সমুদ্রের পাথর বিছনো বিছানার ওপর অবস্থিত দরগা ৫০০ বছর ধরে মুসলিম ভাবাবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। বেশ কিছু হিন্দি ছবির `হট স্পট` হয়েছে বাবা হাজী আলির দরবার।
কিন্তু একটা বিতর্ক কার্যত প্রলয় তুলেছে আরব সাগরের তিরে। প্রসিদ্ধ এই হাজী আলি দরগায় মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করল দরগা কর্তৃপক্ষ। হাজী আলি দরগার অছি পরিষদের সদস্য রিজুয়ান মারচেন্ট জানিয়েছেন, "সরিয়া ফতোয়া অনুযায়ীই আমরা মহিলাদের প্রবেশাধিকারে বাধা দিয়েছি।" তবে সরাসরি মহিলা প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ মানতে চামনি মারচেন্ট। তাঁর মত, এখন থেকে মহিলারা দরগার বাইরের অংশ থেকেই প্রার্থনা জানাতে পারবেন। `পাবন্দি` শুধু দরগার ভিতরে প্রবেশেই। মধ্য মুম্বইয়েরই আর এক দর্গা কটোন গ্রিনের মৌলার কথায়, পীঠস্থানে মহিলাদের প্রবেশ `ইসলাম বিরোধী` ও `পাপ`। পঞ্চদশ শতকের হাজী আলি দরগার দরজা মহিলাদের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মুম্বইকারেরা।
দীর্ঘ ছ`মাস আগে এই ফতোয়া জারি হলেও, তা সম্প্রতিই প্রচারের আলোয় এসেছে। ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলন নামে এক সংগঠন এই বিষয়টির বিরোধিতা করায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁরা প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি লিখবে বলে জানিয়েছে। সংগঠনের এক সদস্যা সাফিয়া নিয়াজ বলেন, "আমি ছোটবেলা থেকেই হাজী আলিতে প্রার্থনা করতে যেতাম। বছর খানেক আগেও আমি গিয়েছি, তখন কোনও নিষেধাজ্ঞা ছিল না।" সাফিয়ার তরজা, "ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ে, ইসলামের চোখে মহিলা ও পরুষের অধিকারের ক্ষেত্রে কোনও ভেদাভেদ নেই।" সেইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, মহিলাদের ছোট করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সরিয়া আইনের অজুহাতে একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও হাজি আলি অছি পরিষদের এহেন ফতোয়া জারির বুরুদ্ধে জনমত পুঞ্জীভূত হতে শুরু করেছে গোটা দেশ জুড়ে। বেশ কিছু প্রমুখ সংগঠনের তরফে সরাসরি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
যদিও শত বিরোধিতা সত্ত্বেও অবস্থানে অনড় দরগা কর্তৃপক্ষ। এই নির্দেশ সকলকে মেনে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন রিজুয়ান মারচেন্ট। তিনি আরও বলেন, "এটি একটি ছোট ঘটনা, এটাকে এত গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই"।