শীতে, কুয়াশায় জবুথবু রাজ্য, উত্তর ভারতে মৃত ৪০

Update: December 28, 2012 09:47 IST

রাজ্যজুড়ে শীতের কামড় অব্যাহত। আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তীব্র ঠাণ্ডার কবলে উত্তর ও পূর্ব ভারত। ঠাণ্ডায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪০-এরও বেশি।

আজ কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে চার ডিগ্রি কম। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলার জনজীবনও শীতে জবুথবু। ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার কারণে বহু জায়গাতেই রেল ও সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিও পড়ছে ঘন কুয়াশা ও হাড়কাঁপানো শীতের কবলে। দক্ষিণবঙ্গে কলকাতা ছাড়া বাকি সব জেলাতেই শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

শীতে জবুথবু দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা। উত্তর চব্বিশ পরগনার তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে তাপমাত্রা নেমেছে ৯ ডিগ্রিতে। গতকাল রাতে হাওড়ার তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

হাড়হিম করা ঠাণ্ডা পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতেও। পুরুলিয়ার তাপমাত্রা ৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাঁকুড়ায় ৮.৭ ডিগ্রি। বীরভূমের তাপমাত্রা ৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঠাণ্ডার সঙ্গে জেলাগুলিতে রয়েছে ঘন কুয়াশার দাপট।

উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিও ঘন কুয়াশা ও হাড়কাঁপানো শীতের কবলে। দার্জিলিংয়ের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জলপাইগুড়ির তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি। উত্তর দিনাজপুরের তাপমাত্রা ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঠাণ্ডায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪০-এরও বেশি। গত কয়েকদিনে শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশেই ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিহারে ঠাণ্ডায় মৃতের সংখ্যা ১১। পঞ্জাবে মারা গেছেন তিন জন। কুয়াশার কারণে ব্যাহত হচ্ছে ট্রেন ও বিমান চলাচল।

উত্তরপ্রদেশের বহু জায়গায় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে। গয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪.৬ ডিগ্রি। হরিয়ানার নারনাউলে ২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। শীতের কামড়ে কাবু রাজধানী দিল্লিও। দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪.২ ডিগ্রি। লাহুল, স্পিতি, কিন্নর সহ হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় তুষারপাত হয়েছে।






Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।