ইশান্তদের মরণকামড়ে কোটলায় মানরক্ষা ভারতের

ভারত জাগল। তবে দেরিতে, বড্ড দেরিতে। দিল্লির হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় ধোনির দল জয় পেল খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। গায়ের লোম খাড়া করে দেওয়া এই নাটকীয় ম্যাচে ভারত জিতল ১০ রানে। মাত্র ১৬৭ রানের পুঁজি নিয়েও ম্যাচের শেষ ১৫টা ওভার দারুণ ক্রিকেট খেলে ভারতীয় দল নিয়মরক্ষার ম্যাচে মান বাঁচল। সেই সঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিরুদ্ধে ব্রাউনওয়াশ মানে ০-৩ হারের লজ্জা থেকে বেঁচে গেল ধোনির দল।

Updated: Jan 6, 2013, 11:18 AM IST

ভারত-- ১৬৭, পাকিস্তান-- ১৫৭
ভারত জাগল। তবে দেরিতে, বড্ড দেরিতে। দিল্লির হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় ধোনির দল জয় পেল খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। গায়ের লোম খাড়া করে দেওয়া এই নাটকীয় ম্যাচে ভারত জিতল ১০ রানে। মাত্র ১৬৭ রানের পুঁজি নিয়েও ম্যাচের শেষ ১৫টা ওভার দারুণ ক্রিকেট খেলে ভারতীয় দল নিয়মরক্ষার ম্যাচে মান বাঁচল। সেই সঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিরুদ্ধে ব্রাউনওয়াশ মানে ০-৩ হারের লজ্জা থেকে বেঁচে গেল ধোনির দল।
প্রথমে ব্যাট করে স্কোরবোর্ডে ভারতের রান ছিল মাত্র ১৬৭। জবাবে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে পাকিস্তানও দিব্যি খেলছিল। ৩৪ ওভারে উইকেটে ছিল ১১৩ রান। হার দেখতে দেখতে ক্লান্ত ভারতীয় সমর্থকরা ততক্ষণে টিভি বন্ধ করে দিয়েছেন। ব্রাউনওয়াশের খাড়া মাথায় নিয়ে ক্যাপ্টেন কুল ধোনিকে বেশ বিচলিত দেখাচ্ছিল। ফেসবুক, এসএসএসে ততক্ষণে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে ব্রাউনওয়াশ হারের। কিন্তু এরপরই কোটলায় নাটক শুরু। হাড় কাপানো ঠান্ডায় হঠাত্‍ই ভারতীয়দের ০-৩ হারের লজ্জার ভয়টা যেন গা গরম করে দিল।
বিদেশের মাটিতে ০-৮ হার, ইংল্যান্ডের কাছে ঘরের মাঠে সিরিজ হার, পরপর দু ম্যাচ হেরে পাকিস্তানের কাছে সিরিজ হাতছাড়া করা এই এতসব ঘটনায় খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা একটা দল শুরু করল প্রত্যাবর্তনের লড়াই। মাটি কামড়ে পড়ে থাকা অধিনায়ক মিসবাকে ফিরিয়ে সেই প্রত্যাবর্তনের লড়াইয়ের যাত্রা শুরু। এরপর একে একে  শোয়েব মালিক, উমর আকমল, উমর গুল, সইদ আজমলরা ফিরে গেলেন। ফিরে যাওয়ার কারণটা যদি ভারতীয়দের দুর্দান্ত বোলিং- ফিল্ডিং হয় তাহলে অন্যদিকে থাকবে পাকিস্তান ক্রিকেটকে নিয়ে চলা সেই আদি প্রবাদটা। যেখানে বলা হয় চাপে পড়লেই পাকিস্তানের ব্যাটিং আর তাসের ঘর এক হয়ে যায়। অশ্বিন, ইশান্তরা ঠিক সেটাই করলেন। চাপে থাকা পাক ব্যাটসম্যানদের কাছে হাওয়ার মানে বেশি কিছু করতে না চেয়ে ঠিক লাইন- লেন্থে বল রেখে কাজটা করলেন। ব্যস এতেই তাসের ঘর ভেঙে পড়ল হুড়মুড়িয়ে। শেষ অবধি অবশ্য হাফিজ থাকায় একটা ভয় ছিল। একেবারে শেষ উইকেটটা এল হাফিজেরই। ইশান্তের বলে যুবরাজের হাতে হাফিজ ধরা পড়তেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মাতলেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। দেখে কে বলবে এই দলটা আসলে ম্যাচ জিতলেও সিরিজে হেরেছে। তবে একটু গভীরে গেলে বোঝা যায় এই উচ্ছ্বাসটা আসলে দারুণ চাপে থাকা একটা দলের হঠাত্‍ প্রাপ্তির বহিপ্রকাশ।

বাংলার সামি আমেদের কাছে এটাই ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচ। নিজেকে উজাড় করে সামি ৯ ওভার বল করে পেলেন ৪টা মেডেন। সঙ্গে একটা একটা উইকেট। আর অবশ্য এমন একটা ম্যাচে খেলার স্মৃতি যেটা অনেকদিন সবার মনে থাকবে। ইশান্ত শর্মা হারিয়ে যাওয়া নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন। ইশান্ত ৩৬ রান দিয়ে পেলেন ৩ উইকেট। অশ্বিন আর ভুবনেশ্বর কুমার পেলেন দুটো করে উইকেট।
ভারতের ব্যাটিংয়ের করুণ দশাটা ঢাকা পড়ল ইশান্তদের সৌজন্যে। সেওয়াগকে বাদ দিয়ে রাহানেকে নিয়েও ভারতীয় ব্যাটিং পড়ে থাকল সেই আঁধারেই। লড়লেন শুঝু ধোনি (৩৬)।  শেষ বেলায় ইশান্তদের ভেল্কিতে ঢাকা পড়ে গেল সইদ আজমলের ২৪ রানে ৫ উইকেটের স্পেলটা। কোটলার ম্যাচে যদি আজমল ঢাকা পড়ে যান হেরো দলে আছেন বলে, তাহলে আজকের ম্যাচের সেরা ধোনি সিরিজে ঢাকা পড়বেন হেরো দলের অধিনায়ক বলে। সিরিজের তিন ম্যাচেই ব্যাট হাতে ধোনি জাস্ট সুপারহিরো। কিন্তু অধিনায়ক ধোনি সিরিজ হেরে চাপের দুনিয়ায় থাকলেন। আজ জিতেও সেই চাপটা সরানো গেল না। 
পাকিস্তানের উইকেটপতন--
১-৩ (কামরন), ২-১৪ (ইউনিস খান), ৩-৬১ (নাসির জামসেদ), ৪-১১৩ (মিসবা), ৫-১১৯ ( শোয়েব), ৬-১২৫ (উমর), ৭-১৪৪ (গুল), ৮-১৪৫ (আজমল), ৯-১৪৫ (জুনেইদ), ১০-১৫৭ (হাফিজ)।