সেরার সেরা বোল্ট

Update: August 6, 2012 14:01 IST

বিশ্বের দ্রুততম মানুষই হয়ে রইলেন উসেইন বোল্ট। ৪ বছর পরেও। অলিম্পিকের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ইভেন্ট পুরুষদের একশো মিটার দৌড়ে সোনা জিতলেন বোল্ট। মাত্র ৯.৬৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন তিনি। এই দুনিয়ায় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে বোল্টের সবচেয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্ধী স্বদেশীয় ইয়োহান ব্লেক হলেন দ্বিতীয়। সেমিফাইনালে ৯.৮৭ সেকেন্ডে রেস শেষ করেন বোল্ট। অপর সেমিফাইনালে বোল্টের থেকে দ্রুত দৌড়লেন বোল্টের বন্ধু ইয়োহান ব্লেক। ৯.৮৫ সেকেন্ডে রেস জিতে নেন ব্লেক। ফাইনাল লড়াইয়ের আগে অ্যাডভান্টেজ ছিল বন্ধু ব্লেকেরই। কিন্তু দুনিয়ার নজরে থাকা পুরুষদের ১০০ মিটারের ফাইনাল লড়াইয়ে একেবারে ওস্তাদের বাজিমাত উসেইন বোল্টের। এদিকে ১০০ মিটার দৌড়ের ফাইনাল শুরুর গ্যালারি থেকে বোল্টের উদ্দেশ্যে বোতল ছোঁড়েন এক ব্যক্তি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিস গ্রেফতার করেন। এই ঘটনায় কেউ আহত না হলেও, গোটা ঘটনার লজ্জিত আয়োজকরা।

বেজিংয়ের পর বারবারই কঠিন প্রতিদ্বন্ধিতার সামনে পড়েছিলেন। বারবার বিপদে ফেলে দিচ্ছিলেন তাঁর বন্ধু ব্লেকই। কিন্তু জিনিয়াসরা যে তাঁদের পারফরম্যান্স আসল মঞ্চের তুলে রাখেন! ফাইনালের দৌড় শুরু হতেই বোল্টের স্বভাবসিদ্ধ স্লো স্টার্ট ।বেশ খানিকটা এগিয়ে গেছেন গ্যাটলিন, ব্লেক, টাইসন গে। ৫০ মিটার পেরোতেই, পলকে বোল্ট বিদ্যুতের কাছে একে একে পেছনে পরতে থাকেন গ্যাটলিন ,ব্লেক, গে, আসাফা পাওয়েল। ৭ নম্বর লেনে দীর্ঘ দ্রত মানুষটি তখন যেন উড়ছেন। পলকে ৫ নম্বর লেনের কঠিন প্রতিদ্বন্ধীকে সেকেন্ডের ভগ্নাংশে পেছনে ফেলে আবার দ্রুততম মানুষ হলেন জামাইকান স্প্রিংটার। মাত্র ৯.৬৩ সেকেন্ডেই শেষ করলেন ১০০ মিটার পথ। ব্লেক শেষ করলেন ৯.৭৫ সেকেন্ডে। পেলেন রুপো। আর আরেক প্রতিদ্বন্ধী মার্কিন গ্যাটলিন ৯.৭৯ সেকেন্ডে শেষ করে গলায় তুললেন ব্রোঞ্জ।

অলিম্পিক পার্কে একশো মিটার দৌড়ের ফাইনাল লড়াইয়ের জন্য যখন তৈরি হচ্ছেন বোল্ট সেই সময়ই হঠাত্ বোল্টের উদ্দেশ্যে গ্যালারি থেকে উড়ে আসে বোতল। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গ্রেফতার করে লন্ডন পুলিস। কিন্তু ব্যক্তিটি কেন বোল্টকে বোতল ছোঁড়ে তা জানা যায়নি। গ্যালারিতে ওই ব্যক্তির সামনের চেয়ারে বসেছিলেন জুডোতে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী ডাচ খেলোয়াড় এডিথ বস। ঘটনার পর তিনি  নেদারল্যান্ডসের একটি টেলিভিশনকে জানান, দৌড় শুরুর আগে থেকেই সেই ব্যক্তি গ্যালারিতে বসে বোল্টের উদ্দেশ্যে কটুক্তি করছিল ।তারপরই বোতল ছোঁড়ে ট্র্যাকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে চড় মারেন ডাচ জুডো খেলোয়াড়। এরপরই পুলিস তাঁকে গ্রেফতার করে।

বোল্টের খারাপ দিনে,কম হুঙ্কার দিতেন না বুড়ো আসাফা পাওয়েল। ট্র্যাকের হাইভোল্টেজ দিনে বোল্টের কাছে হঠাত্ই পিছিয়ে পড়ে ট্র্যাকের মাঝেই দাঁড়িয়ে পড়েন আসাফা। অবশেষে ১১ সেকেন্ডের কিছু বেশি সময়ে দৌড় শেষে করে সর্বশেষ স্থান পান তিনি। শেষ রাতে ওস্তাদ বোল্টের মার খেয়ে আসাফা পাওয়েল যেন মনে মনে ঠিক করে ফেলেছেন, ট্র্যাককে বিদায় দেওয়ার এটাই সেরা সময়।
 







Post Your Comment

Total Comments:2

bolt tumi jug jug jio...........

``sera`` Sobar sera sera kono din harte pare na.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।