দিন্দার শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নাটকীয় জয় ইংল্যান্ডের

Update: December 22, 2012 23:13 IST

ভারত: ১৭৭/৮। ইংল্যান্ড: ১৮১/৪

হিরো হওয়ার সব রসদটুকু হাতের কাছেই ছিল। কিন্তু শেষ বলে ছয় খেয়ে ভারতের হারের জন্য ভিলেনের দলে নাম লেখালেন বাংলার অশোক দিন্দা। মরগ্যানের একটা ছয় দিন্দাকে এমন এক কলঙ্কের পরিবারের অংশীদার করল যার সদস্য হতে চাইবেন না কেউই। টেস্টে সিরিজে লজ্জার হারের পর টি-২০ তেও হতাশ করল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। মুম্বইয়ে সিরিজের শেষ টি টোয়েন্টিতে নাটকীয় ম্যাচে হেরে গেল ভারত। টেস্টে হারের ঘায়ে নুনের ছিঁটের মত টি টোয়েন্টি সিরিজ জিততে ব্যর্থ টিম ইন্ডিয়া। রথী-মহারথী বিহীন আনকোড়া ইংল্যান্ড দলের বিরুদ্ধেও সিরিজ ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হল ধোনি বাহিনীকে।  

আসলে সামগ্রিক ভাবেই বোধহয় ভারতীয় ক্রিকেটে এখন শনির দশা চলছে। দেশের মাটিতে ২৮ বছর পর টেস্ট সিরিজ হারের বেদনা হয়ত একটু মিটত টি টোয়েন্টি সিরিজটা হাতে এলে। কিন্তু সেই আশা নির্মম ভাবে নিহত হল ওয়াংখেড়ের ২২ গজে। ম্যাচের শেষ ওভারে ইংল্যান্ডকে জিততে হলে করতে হত ৯ রান। বোলার ছিলেন অশোক দিন্দা। সুযোগ ছিল পরপর দুটো টেস্টে ১৪ জনের দলে থেকেও মাঠে নামতে না পারার সব টুকু ক্ষোভের বল হাতে জবাব দেওয়ার। কিন্তু নায়ক হয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগটা মাঠেই ফেলে এলেন তিনি। দিন্দার শেষ বলে ইংল্যান্ডকে জিততে হলে করতে হত তিন রান।

প্রথম পাঁচটা বল ভালই করেছিলেন বাংলার এই পেসার। কিন্তু শেষ বলটা ইয়র্কার করতে গিয়ে হাফভলি করে ফেলেন। সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক। দিন্দার মাথার উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে নাটকীয় জয় এনে দেন তিনি।   

এর আগে প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে ১৭৭ রান। কোহলি (৩৮),ধোনি (৩৮), রায়না (৩৫) বেশ ভাল ব্যাটিং করেন। এত রান তোলার পরেও জয় এল না হতশ্রী বোলিংয়ের জন্য। ইংল্যান্ডের ওপেনাররা প্রথম থেকেই দারুণ খেলতে থাকেন। ইনিংসের প্রথম দশ ওভারেই ইংল্যান্ডকে ভাল জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেন লাম্ব-হালস জুটি। ভারতের লজ্জার সিরিজের শেষ কফিনটা পুঁতে দেন মরগ্যান (৯)। ইংল্যান্ড এই ম্যাচ জেতায় দুই ম্যাচের টি-২০ সিরিজ অমীমাংসিত ভাবে শেষ হল।     
 







Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।