কুরুক্ষেত্র যুবভারতী, কলঙ্কিত কলকাতার ফুটবল

Last Updated: Sunday, December 9, 2012 - 15:55

ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে আরও এক লজ্জার সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা। মরসুমের প্রথম ডার্বি ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে উঠল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। মোহনবাগানের ওডাফা ওকেলিকে লাল কার্ড দেখানোকে কেন্দ্র করে প্রথমে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়  দু'দলের ফুটবলারদের মধ্যে। সেই বিরোধের আঁচে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দর্শক গ্যালারি। শুরু হয় ইট বৃষ্টি। প্রতক্ষ্যদর্শীরা অভিযোগ করেছেন মোহনবাগান গ্যালারি থেকেই প্রথম ইট ছোঁড়া শুরু হয়। একটি ইট এসে লাগে মোহনবাগানের রহিম নবির মাথায়। তৎক্ষণাৎ তাঁর মাথা ফেটে যায়। নবিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর মাথায় ৪টে সেলাই হয়েছে। অন্যদিকে উভয় গ্যালারি থেকেই ইঁট, বাল্ব, জল, মদের বোতল ছোঁড়া শুরু হয়ে যায়। প্রাথমিক ভাবে পুলিসও উল্টে ইট ছোঁড়ে দর্শকদের দিকে। এরপর দর্শক আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পুলিস-দর্শক খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় খেলা। সাময়িক বিরতির পর আবার খেলা শুরু হলেও মাঠে আইনশৃঙ্খলার অভিযোগ তুলে নজিরবিহীন ভাবে দল প্রত্যাহার করে নেন মোহন কর্তারা। নারাজ মোহন কর্তাদের জন্য শেষপর্যন্ত ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন ম্যাচ কমিশনার। এদিকে দল তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে বড়সর শাস্তি হতে চলেছে মোহনবাগানের।  কিন্তু এসবের মাঝেই আজকের যুবভারতীতে পুলিসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।
ম্যাচের ৪০ মিনিটের মাথায় একটি ফ্রি কিকে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন হরমন জিৎ সিং খাবরা। সেই গোল ঘিরেই প্রাথমিক ভাবে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। এর মধ্যেই রেফারি বিষ্ণু চৌহান মোহনবাগানের নবি, স্ট্যানলি, নির্মল ছেত্রীকে হলুদ কার্ড দেখান। লাল কার্ড দেখানো হয় ওডাফাকে। এরপরও প্রথমার্ধের মিনিট চারেক খেলা হয়। বিরোতির পরই শুরুহয় বিশৃঙ্খলা। এরপরেই শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। ম্যাচে রেফারির ভূমিকা নিয়ে ম্যাচ কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেন সবুজমেরুন কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত নেন দল প্রত্যাহারের। পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামেন ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র। কিন্তু কোন আলোচনাতেই চিঁড়ে ভেজেনি। নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকেছেন মোহন কর্তারা।  তবে দল প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য শাস্তির খাঁড়া নেমে আসতে পারে মোহনবাগানের ঘাড়ে। আইলিগে মোহনবাগানের সব পয়েন্ট কাটা হতে পারে। দুবছরের জন্য নির্বাসিতও করা হতে পারে পালতোলা নৌকাকে। দিতে হতে পারে ক্ষতিপূরণও। ম্যাচ ভন্ডুল হওয়ার পরেই একথা জানিয়ে দেন আই লিগের সিইও সুনন্দ ধর।  কিন্তু শাস্তি যাই হোক না কেন নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে নারাজ মোহনবাগান। মোহনবাগান সচিব অঞ্জন মিত্র পরিষ্কার জানিয়েছেন প্রয়োজনে ফিফার কাছে যাবেন তাঁরা।
কিন্তু এসবের মধ্যেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে যুবভারতীর সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যাবস্থা নিয়েই। মাঠে যথেচ্ছ পরিমাণ নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও নিরাপত্তা যে বিন্দুমাত্র ছিল না, আজকের পরিত্যক্ত যুবভারতী তার জ্যান্ত প্রমাণ।  কী ভাবে মাঠে দর্শকরা বাল্ব, বোতল, অস্ত্র নিয়ে অনায়াসে ঢুকে যেতে পারে প্রশ্ন উঠছে সে সব কিছু নিয়েই। কোথা থেকেই বা আসে এত ইঁটের যোগান? এক লাখ দর্শককে সামলাতে একজনও পুলিস উপস্থিত ছিলেন না গ্যালারিতে। এই রকম উত্তেজনার ম্যাচে যেখানে প্রতি ছত্রে প্রয়োজন ছিল কড়া নিরাপত্তার, সেখানে নুন্যতম হোমওয়ার্কটুকুর আভাস মেলেনি পুলিসের ভূমিকায়। শুধু তাই নয় দর্শকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিস যে ভঙ্গিমায় লাঠি চার্জ করেছে তাও যথেষ্ট নিন্দার দাবি রাখে। পুলিসের লাঠি চার্জে আহত হয়েছেন ১৬জন মোহনবাগান সমর্থক। তাঁদের মধ্যে কারও কারও চোট গুরুতর। এই ঘটানার দায়ভার কিছুতেই প্রশাসন,পুলিসফোর্স ও ফেডারেশন এড়িয়ে যেতে পারে না।
গতকাল বিশ্বজয়ী কিংবদন্তী ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের নিয়ে লজ্জার সম্মুখীন হয়েছিল কলকাতা। তারপরেই আজকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সামগ্রিক ভাবে লাঞ্ছিত হল কলকাতার ফুটবল। সাম্রতিক কালে ভারতীয় ফুটবলের কলঙ্কময় দিনটির সাক্ষী রইল এই শহর।
 



First Published: Sunday, December 9, 2012 - 23:34


comments powered by Disqus