নিজেকেও যেন ছাপিয়ে গেলেন ধাওয়ান

Update: March 16, 2013 22:03 IST

মোহালিতে অভিষেক টেস্টেই নয়া নজির গড়লেন শিখর ধাওয়ান। টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া ক্রিকেটার হিসাবে দ্রুততম শতরান করার কৃতিত্ব দেখান দিল্লির এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। বীরেন্দ্র সেওয়াগ বাদ যাওয়ায় ওপেনার হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ ছিল শিখর ধাওয়ানের কাছে। আর সেই কাজটি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় করে দেখালেন তিনি। মাত্র ৮৫ বল খেলে শতরান করে হয়ে গেলেন মোহালির হিরো।

মজার কথা শেখর ধাওয়ান যার পরিবর্তে মোহালিতে খেলার জায়গা পেলেন সেই বীরেন্দ্র সেওয়াগও তাঁর টেস্টে কেরিয়ারের প্রথম ম্যাচেই শতরান করেছিলেন।

ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসাবে অভিষেক টেস্টে শতরান করে লালা অমরনাথ,আব্বাস আলি বেগ, আজহারউদ্দিন, সৌরভ গাঙ্গুলিদের পাশে নিজের নামটাও জুড়ে দিলেন। এখন তাঁর সামনে রয়েছে অভিষেক টেস্টে দ্বিশতরানের হাতছানি। সেক্ষেত্রে তিনি হবেন বিশ্বের দশম ব্যাটসম্যান যিনি অভিষেকেই ডাবল সেঞ্চুরি করলেন। ধাওয়ান দিনের শেষে একশো পঁচাশি রানে অপরাজিত আছেন। পাশাপাশি ভারতকেও পৌঁছে দিয়েছেন ভাল জায়গায়।


এক নজরে অভিষেক টেস্টে শতরানকারী ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা--
১) লালা অমরনাথ (‍১১৮ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে, মুম্বইয়ে,১৯৩৩ সালে)
২) দীপক সোদান (১১০ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে, কলকাতায়, ১৯৫২ সালে)
৩) এজে কৃপাল সিং (১০০ অপঃ, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে, হায়দরাবাদে, ১৯৫৫ সালে)

৪) আসিফ আলি বাগ (১১২ রান, ম্যানচেস্টারে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে, ১৯৫৯ সালে)
৫) হনুমন্ত সিং (১০৫ রান, দিল্লি, ১৯৬৪ সালে)
৬)গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ (১৩৭ রান, অস্ট্রেলিয়া, কানপুরে, ১৯৬৯ সালে)
৭) সুরিন্দর অমরনাথ (১২৪ রান, নিউজিল্যান্ড, অকল্যান্ড, ১৯৭৬ সাল)

৮) মহম্মদ আজহারউদ্দিন (১১০ রান, কলকাতা, ১৯৮৪ সালে)
৯) প্রবীণ আমরে (১০৩ রান, ডারবানে, ১৯৯২ সাল)
১০) সৌরভ গাঙ্গুলি (১৩১ রান, লর্ডস, ১৯৯৬ সালে)

১১) বীরেন্দ্র সেওয়াগ (১০৫ রান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ১০৫ রান)
১২) সুরেশ রায়না (১২০ রান, শ্রীলঙ্কা, কলম্বোয়, ২০১০)
১৩) শেখর ধাওয়ান (১৮৫ অপঃ, অস্ট্রেলিয়া, মোহালি, ২০১৩)



Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।