ধোনি ধামালে চেন্নাইয়ে সুপার কিং ভারত

Last Updated: Sunday, February 24, 2013 - 16:50

ভারত-- ৫১৫/৮। অস্ট্রেলিয়া-- ৩৮০
চিপকের ২২ গজ সাক্ষী থাকল মহেন্দ্র সিং ধোনির প্রথম টেস্ট দ্বিশতরানের। কেরিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটার সঙ্গেই মাহি সেরে ফেললেন উইকেট কিপার-অধিনায়ক হিসাবে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ডটাও। অসি বোলিং স্কোয়াডকে নিয়ে রীতিমত ছিনিমিনি খেলে দাপটের সঙ্গে পেরিয়ে গেলেন  ডাবল সেঞ্চুরির গণ্ডি। আজ টিম ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেন অনন্য কীর্তিকে শুধু তাঁর ড্রেসিং রুমই নয়, কুর্ণিশ জানাল বিপক্ষ দলের যোদ্ধারাও। সচিনের সেঞ্চুরি দেখতে চিপকে ভিড় জমানো হতাশ জনাতাও শেষ বেলায় অপ্রাত্যাশিত ধোনি ধামালে তাই উদ্বেল।  
গতকাল অস্ট্রেলিয় অধিনায়কের শতরানের জবাব সহধিনায়কের ব্যাটেই উঠে এসেছিল। ব্যাক্তিগত ১০৭ রানের মাথায় লিয়নের বলে আউট হয়ে কোহলি প্যাভেলিয়নে ফিরে যাওয়ার পর দলের দায়িত্ব একার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন ধোনি। উপমহাদেশীয় উইকেটে মাহির ব্যাটকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষমতা খুব কম বোলারের আছে। আজও প্রত্যাশামত দেশের মাটিতে নিজের দুরন্ত ফর্ম বজায় রাখলেন তিনি। তৃতীয়দিনের শেষে ক্যাপ্টেন কুল অপরাজিত থাকলেন ২০৫ রানে। স্কোরবোর্ডে ভারতের রান ৫১৫, অস্ট্রেলিয়ার থেকে ১৮০ বেশি।
আজ শুরু থেকেই ভারত অধিনায়ক ব্যাটে ঝড় তুলেছিলেন। মাত্র ১২১ বলেই সেরে ফেলেছিলেন সেঞ্চুরিটা। শতরানের সীমা টপকাতে মোট ১৩ বার বাউন্ডারির বাইরে বল পাঠালেন তিনি। ওভার বাউন্ডারির সংখ্যা এক। এক শতরান পেরিয়ে আর এক শতরানের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে একটুও ক্লান্ত হল না ধোনির ব্যাট। লিয়ন,  প্যাটিনসন সহ গোটা অসি বোলিং স্কোয়াড নতজানু হল তার কাছে। ডাবল সেঞ্চুরি করতে নিলেন মাত্র ২৩১টি বল। ওভার বাউন্ডারির সংখ্যা বাড়িয়ে নিলেন আরও ৪টে। আরও আট বার বাউন্ডারি ছুঁয়ে গেল মাহির দুরন্ত শট।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্টে এটাই কোনও ভারত অধিনায়কের সর্বোচ্চ ইনিংস৷ ১৯৬৪-তে পটৌডি’র ২০৩ আর ১৯৭৮-এ গাওস্করের ২০৫ এদিনই টপকে গিয়েছেন ধোনি৷ সামনে শুধু সচিনের ২১৭৷ মানে আর ১২ রান করলেই আরেকটা রেকর্ড৷
যে কোনও বিপক্ষের বিরুদ্ধে কোনও ভারত অধিনায়কের সর্বোচ্চ ইনিংস৷ দুনিয়া জোড়া লিস্টে সঙ্গকারা ১৩ রান দূরে থাকলেও ধোনি ইতিমধ্যেই কিপার-অধিনায়ক হিসেবে শৃঙ্গে চড়েছেন৷ ভারত অধিনায়ক হিসেবে টেস্ট কেরিয়ারে সবচেয়ে বেশি রানের দৌড়েও গাওস্কর-আজহারকে প্রবলভাবে তাড়া করছেন ধোনি৷
ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর এমনিতেই ধোনির অধিনায়কত্ব চলে গিয়েছিল মাইক্রোস্কোপের তলায়। বিসিসিআই প্রেসিডেন্টের স্নেহধন্য হলেও অস্ট্রেলিয়া সিরিজই তাঁর অ্যাসিড টেস্ট সেটা মাহি বিলক্ষণ জানতেন। সব সমালোচনা, সব বিতর্কের জবাব দেওয়ার জন্য ধোনি তাই বেছে নিলেন চিপকের ক্রিজকেই। সঙ্গী তাঁর প্রিয় উইলো কাঠের অস্ত্র। নিজেকে প্রমাণ করার জন্য ব্যাগিগ্রিন টুপির মালিকদের থেকে ভাল প্রতিপক্ষ আর কেই বা হতে পারে। ধোনিও এই সুযোগ হাতছাড়া করলেন না। তার জেরেই চিপক আজ চেন্নাই সুপার কিংস-এর অধিনায়কের দখলে।  
চেন্নাই টেস্টে শতরান পেলেন না সচিন তেন্ডুলকর। তবে মাস্টার ব্লাস্টারের তৈরি ভিতেই দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বাকি দায়িত্বটা পালন করলেন ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন প্রজন্ম। প্রথমে কোহলি পরে ক্যাপ্টেন ধোনির জোড়া সেঞ্চুরি, বর্ডার-গাভাসকার ট্রফির প্রথম টেস্টের তৃতীয়দিনের লড়াই জমিয়ে দিল।
গতকালের সচিনোচিত দুরন্ত ৭১-এর পর আজকে তাঁর ৫২ তম টেস্ট সেঞ্চুরিটি দেখতে চিপকের মাঠে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ। কিন্তু কালকের রানের সঙ্গে আজ মাস্টারব্লাস্টার যোগ করলেন মাত্র দশ রান । নাথান লিয়নের বল পিচের রাফ ফেজে পড়ে হঠাৎ করে অস্বাভাবিক টার্ন নিয়ে যখন সচিনের উইকেটের বেল ছিটকে দিল, তখন এক মুহূর্তের জন্য যেন থেমে গেল স্টেডিয়ামের পরিচিত চিৎকার। পরিসংখ্যান বলছে চল্লিশ তম জন্মদিন থেকে মাস দু'য়েক দূরে থাকা সচিনের ব্যাট আরও এক শতরান থেকে মাত্র ১৯ রান আগেই থেমে গেল। কিন্তু বিপর্যয়ের সময় একা হাতে দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার যে দায়িত্ব তিনি পালন করলেন তা দেখে বোধ হয় অনুপ্রাণিত হলেন বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা সচিনের থেকে প্রায় ১৬ বছরের ছোট কোহলি। তাই ব্যাডপ্যাচ কাটিয়ে উঠে বহুদিন পর স্বমহিমায় দেখা গেল টিম ইন্ডিয়ার বর্তমান ব্লু আইড বয় কোহলিকে। বহুদিন পর নিজের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করে অসি বোলিংকে রীতিমত শাসন করে সেরে ফেললেন নিজের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরিটা।
এখনও হাতে ২টো গোটা দিন। অন্তত্য ২০০ রানের লিড নিয়ে আশা করা যায় ধোনি ক্লার্কদের দিকে একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবেন। প্রথম ইনিংসের মত এই ইনিংসেও যদি অশ্বিন জ্বলে ওঠেন, সঙ্গে শততম টেস্টের শেষ অধ্যায়ে ফিরে পাওয়া যায় পুরনো ভাজ্জিকে তাহলে আশা করা যায় সিরিজের শুরুটা টিম ইন্ডিয়ার জয় দিয়েই হয়র সাজানো থাকবে।



First Published: Sunday, February 24, 2013 - 20:00


comments powered by Disqus