ফেয়ারওয়েল-বাইচুং

Update: January 10, 2012 15:14 IST

একদিকে স্বপ্নের বাস্তবায়ন। অন্যদিকে মন খারাপ করা আবেগ। দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ফুটবল কেরিয়ার শেষ হল বাইচুং ভুটিয়ার। বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে নামার আগে ভারতীয় শিবিরকে এই ভাষাতেই যেন ব্যক্ত করা যায়। রবেন-টমাস মুলারদের বিরুদ্ধে খেলতে নামার স্বপ্নে বুঁদ হয়ে থাকা নবি-ক্লিফোর্ডদের মন খারাপ তাঁদের প্রিয় অধিনায়কের জন্য। আর কোনওদিন ভারতীয় দলের নীল জার্সি গায়ে আর্ম ব্যান্ড পরে ড্রেসিংরুমে বাইচুং ভুটিয়া ফুটবলারদের তাতাবেন না। রিবেরি-রবেনদের বিরুদ্ধে শেষ বার বিখ্যাত ১৫ নম্বরের নীল জার্সি পরে মাঠে নামবেন ভারতীয় ফুটবলকে নতুন করে স্বপ্ন দেখানো নেতা।

মাত্র ১৯ বছরেই উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে গোল করে ভারতীয় ফুটবলে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক গোল করার কীর্তি অর্জন করেন বাইচুং। আর ২০১২-তে নিজের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ১০৮ তম ও শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ভারতের গর্বের নীল রঙের জার্সিকে বিদায় জানাচ্ছেন বাইচুং। পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না ভারতীয় ফুটবলে বাইচুংয়ের অবদানকে। সিকিমের অখ্যাত পাহাড়ি গ্রাম তিনকিতাম থেকে সাফল্যের তলানিতে থাকা ভারতীয় ফুটবলকে দেখিয়েছিলেন অন্য দিশা। কুয়োর ব্যাঙের মত পড়ে থাকা ভারতীয় ফুটবলকে শিখিয়েছেন পেশাদারিত্বের সঙ্গে বানিজ্যিকরণের দুরন্ত ককটেল কাকে বলে!
বাইচুং আবেগে ভেসে গেলেও ফুটবলাররা কিন্তু শোয়াইনস্টাইগারদের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে বেশ সিরিয়াস। কোচ স্যাভিও মেডেইরা ইতিমধ্যেই সাজিয়ে ফেলেছেন তাঁর প্রথম একাদশ। বাইচুংয়ের সঙ্গে আপফ্রন্টে থাকবেন সুশীল সিং। মাঝমাঠের দায়িত্ব সামলাবেন ভাসুম,ডিকা, ক্লিফোর্ড মিরান্ডা ও রোকাস লামারের। আর রিবেরি-রবেন-লামদের আক্রমণ সামলাতে নবি, গৌরমাঙ্গি,গোবিন ও নির্মল ছেত্রীদের নিয়ে স্যাভিও সাজাচ্ছেন তাঁর রক্ষণ। ভাইচুংয়ের ফেয়ারওয়েল ম্যাচ নিয়ে স্যাভিও-র ছেলেরা আবেগতাড়িত হলেও, বায়ার্ন ম্যাচকে প্রদর্শনী ম্যাচ হিসেবে দেখতে রাজি নন তাঁরা। বরং বাইচুংয়ের বিদায়কে মধুর করতে চোখধাঁধানো ফুটবল প্রিয় ভাইকে উপহার দিতে চান নির্মল-জুয়েলরা। বহু মাইলস্টোন তৈরী করা তিনকিতাম এক্সপ্রেস বাইচুংয়ের আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে বিদায় হলেও এখনও তিনি কাজ করবেন ভারতীয় ফুটবলের জন্য। অলক্ষ্যেই স্বপ্ন দেখাবেন ভারতীয় ফুটবলের নতুন দিগন্তকে।



Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।