চেন্নাই টেস্ট ভারতের

Last Updated: Tuesday, February 26, 2013 - 11:05

অস্ট্রেলিয়া-- ৩৮০, ২৪১।। ভারত-- ৫৭২, ৫০/২
ভারত জয়ী ৮ উইকেটে। ম্যাচের সেরা-- মহেন্দ্র সিং ধোনি

চেন্নাই টেস্টে আট উইকেটে জিতল ভারত।অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চার টেস্টের সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল ধোনিবাহিনী। দুরন্ত দ্বিশতরানের জন্য ম্যাচের সেরা হয়েছেন ধোনি।
দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজ খুইয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ভারতীয় দল কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ পেল।  ম্যাচের পঞ্চম দিনের সকালে ৯ উইকেটে ২৩২ রান হাতে নিয়ে খেলতে নামে অস্ট্রেলিয়া। এদিন আর নয় রান যোগ করে মোজেস হেনরিকেস-লিঁও জুটি। এরপর নাথান লিঁওকে ফিরিয়ে অসিদের দ্বিতীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান রবীন্দ্র জাদেজা। ২৪১ রানে শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস। মোজেস হেনরিকেস ৬৮ রানে অপরাজিত থাকেন।
ভারতের সামনে জয়ের টার্গেট দাঁড়ায় ৫০। টার্গেট অল্প হলেও তা তুলতে খানিকটা চাপে পড়েছিল ভারতীয় দল। দ্বিতীয় ইনিংসেও ফের ব্যর্থ হন ভারতের দুই ওপেনার। মুরলি বিজয়কে ছয় রানে প্যাভিলিয়নে ফেরান প্যাটিনসন। ব্যক্তিগত ১৯ রানে লিঁও-র বলে আউট হন সেওয়াগ। ফলে টেস্ট জিতলেও দুই ওপেনারের ফর্ম চিন্তায় রাখল ধোনিকে। দুই ওপেনার ফিরতেই ব্যাট হাতে নামেন সচিন তেন্ডুলকর। নেমেই পরপর দুই বলে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করে দেন। সচিন ১৩ ও পূজারা ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচের সেরা হয়ে সমালোচকদের আপাতত চুপ করিয়ে দিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। পাশাপাশি দুই ইনিংস মিলে অস্ট্রেলিয়ার ১২ উইকেট তুলে অধিনায়ককে স্বস্তিতে রাখলেন অশ্বিন।
 শেষ কবে কোনও টেস্টে একসঙ্গে ক্লিক করেছিল ভারতের ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং, এই তিন বিভাগেই? শেষ কবে টেস্ট বিশ্ব দেখেছিল টিম ইন্ডিয়ার এই রকম সমবেত রুস্তমি? হ্যাঁ, কিছু অসাধারণ পারফরমেন্স এক সুতোয় গেঁথে গিয়ে আসলে বহুদিন পর গোটা ভারতীয় দলের কাছে হেরে গেল ব্যাগিগ্রিন টুপির মালিকরা।
বর্ডার-গাভাসকার ট্রফির শুরুটা ধোনি ব্রিগেড করল জয় দিয়ে। ভুল হল, শুরুটা হল একচ্ছত্র আধিপত্য দিয়ে। তিন টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচটা ভারত হেলায় জিতে নিল। নাশকতা দীর্ণ হায়দরাবাদের মাটিতে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামার আগে তাই অ্যাডভানটেজ টিম ইন্ডিয়া।
চেন্নাই টেস্ট শুরুর আগে স্মৃতিতে টাটকা ছিল বিদেশের মাটিতে আট টেস্টের হারের কলঙ্কের সঙ্গে বিষ ফোঁড়ার মত জুড়ে থাকা দেশের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজ হার। মাইক্রোস্কোপের নীচে চলে যাওয়া ক্যাপ্টেন আর কোচের কম্বিনেশন, ড্রেসিং রুমের মধ্যে ছোট ছোট দলের ভাগ, সিনিয়ার-জুনিয়ার বিবাদ, স্বেচ্ছাচারের অভিযোগ, প্রাক্তনীদের তীব্র সমালোচনা, সবমিলিয়ে একদা সুখের সংসারে শুধুই অশান্তির কালো মেঘ। প্রিয় কিন্তু কঠিন বিপক্ষের বিরুদ্ধে একটা জয়, অবিস্মরণীয় কিছু পারফরমেন্স এক লহমায় ম্যাজিকের মত বদলে দিল সব কিছু।
প্রথম দিনেই অশ্বিনের ম্যাজিক স্পেলে ইঙ্গিত ছিল জয়ের। শততম টেস্টে ভাজ্জির ব্যার্থতার দিনে ঘরের মাঠে অসিদের মেরুদন্ডটা ভেঙে দিয়েছিলেন এই অফস্পিনার। প্রথম ইনিংসেই অশ্বিনের ঝুলিতে জমা পড়েছিল ক্লার্ক বাহিনীর সাতটি উইকেট। আর দুই ইনিংস মিলিয়ে ভারতের নতুন প্রজন্মের সেরা স্পিনিং অস্ত্রের শিকার ১২। শুরু এবং সমাপতনটা যদি হয় মনমত পিচে অশ্বিনের আঙুলের কারসাজি নিয়ে মাঝের টুকু তাহলে সাজানো থাকল সচিন, ধোনি আর কোহলির ব্যাটিং বিক্রম দিয়ে। দলের বিপদের সময় জ্বলে উঠেছিলেন সেই তিনি, সচিন তেন্ডুলকর। না, প্রত্যাশামত ৫২তম সেঞ্চুরি হয়ত হল না, কিন্তু চল্লিশ ছুঁইছুঁই মাস্টারব্লাস্টারের নিখুঁত ৮১-এর ভিতেই প্রাসাদ গড়লেন অধিনায়ক ধোনি। সঙ্গতে দলের সহঅধিনায়ক। বেশকিছুদিন পর নিজের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করে বিরাট কোহলি ১০৭ রানে যখন প্যাভেলিয়নে ফিরছেন চিপকে ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে ধোনি ধামাল। লিয়ঁ, প্যাটিনসনদের শাসন করে ধোনির ব্যাট থামল ২২৪-এ। ভারত অধিনায়কের বিপক্ষে মাঠে হয়ত অসিদের ১১জন ছিলেন। কিন্তু আসলে তাঁর ব্যাটতো যুদ্ধ চালাচ্ছিল চিপকের চৌহদ্দি ছাড়িয়ে সেই শত শত সমালোচনার বিরুদ্ধেও। যে গুলো একসপ্তাহ আগেও ঘুম কেড়ে নিয়েছিল তাঁর। মাঠে-মাঠের
বাইরের প্রতিপক্ষদের হেলায় হারিয়ে মাহির ইনিংস অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে ভবিষ্যতের ক্রিকেটিয় প্রজন্মের কাছে।

এতকিছু ভালর মাঝে ধবধবে দুধে চোনার মত রয়ে গেল চেন্নাই টেস্টের পঞ্চম দিন। ১৭৫ রানে অসিদের নয় উইকেট ফেলে দেওয়ার পর ইনিংসে টেস্ট জয় এইভাবে কি হাতছাড়া করা যায়? ইনিংস জয় না হলেও চারদিনেই কি শেষ করা গেল না চেন্নাই টেস্টকে? তবে সবকিছুর শেষে বেশ কিছুটা কৃতিত্ব দাবি করেন দুই অসি টেলএন্ডার লিয়ঁ ও হেনরিকে। দলের মহারথীরা যখন ভারতীয় স্পিন আক্রমণের কাছে নতজানু হয়েছেন, তখন নিশ্চিত ইনিংস হারকে বাঁচিয়ে ম্যাচটাকে পাঁচদিনে শুধু টেনে নিয়েই গেলেন না দিনের শেষে দলকে এগিয়ে দিলেন ৪০ রানে।
তবে সব শেষে একটাই কথা, দেশের মাটিতে ইংল্যান্ড সিরিজটাও কিন্তু ভারত শুরু করেছিল জয় দিয়েই। তারপরের অধ্যায়টা কিন্তু সুখকর হয়নি সচিনদের কাছে। তবে আশা করা যায় জয়ের আনন্দে গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে গিয়ে ধোনি এন্ড কোম্পানি একই ভুলের পুনঃরাবৃত্তি করবে না।



First Published: Tuesday, February 26, 2013 - 19:42


comments powered by Disqus