ভরাডুবি বাঁচালেন সচিন

Update: February 23, 2013 12:50 IST

অস্ট্রেলিয়া-- ৩৮০ (ক্লার্ক ১৩০, হেনরিকস ৬৮। অশ্বিন ৭/১০৩)

ভারত-- ১৮২/৩ ( সচিন ৭১ অপঃ, কোহলি ৫০ অপঃ। প্যাটিনসন ৩/২৫)




জেমস প্যাটিনসন নামের এক অসি পেসার তখন দাঁত মুখ বের করে আক্রমণ শুরু করেছেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্রী ব্যাটিংয়ের রোগটা তখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন সেওয়াগরা। ১২ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর নামলেন সচিন। ব্যস, আস্তে আস্তে বদলে গেল সবটা। ভারত এখন অস্ট্রেলিয়ার রানকে ধরে ফেলার স্বপ্ন দেখছে। স্বপ্ন দেখছে একটা স্বর্ণালি শতরানের। দ্বিতীয় দিনের শেষে ভারত এখনও অস্ট্রেলিয়ার রানের চেয়ে ১৯৭ রানে পিছিয়ে হাতে সাত উইকেট। ক্রিজে সচিনের সঙ্গে আছেন বিরাট কোহলি। সচিন ৭১ রানে অপরাজিত, কোহলি ৫০ রানে ব্যাট করছেন। চেতেশ্বর পূজারা ৪৪ রান করেন।

ক্লার্কদের প্রথম ইনিংসে ৩৮০ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষে ভারতের স্কোর তিন উইকেটে ১৮২৷ এদিন ইনিংসের শুরুতেই দুই ওপেনার মুরলি বিজয় ও বীরেন্দ্র সহবাগের উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত ৷

প্যাটিনসনের গতির সামনে পরাস্ত হন মুরলি বিজয়, বীরেন্দ্র সহবাগ। বিজয় ১০ রান আর সেওবাগ মাত্র ২ রান করে প্যাভিলিয়নের রাস্তা ধরেন। দুজনেই গড়ে ১৪৫ কিলোমিটার গতির ডেলিভারির হদিশ করতে পারেননি। এর পর চেতেশ্বর পূজারাকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়ার কাজটা শুরু করেন সচিন। দুজনের অনায়াসে মোকাবিলা করতে থাকেন সিডল, প্যাটিনসনদের। যখন দুজনেই একসঙ্গে অর্ধশতরানের দিকে এগোচ্ছেন, তখনই ফের ছন্দপতন। এবারও ঘাতকের নাম প্যাটিনসন। পূজারাও বোল্ড হন। এরপর সচিন বিরাট কোহলিকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান।

এর আগে আজ সকালে ৩৮০ রানে শেষ হয় ক্লার্ক বাহিনীর প্রথম ইনিংস৷ গতকালের ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে এদিনের খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া৷ দলের ৩৬১ রানে ব্যক্তিগত ১৩০ রানে অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক আউট হন রবীন্দর জাদেজার বলে ৷  ভারতের আর অশ্বিন ১০৩ রানে ৭ উইকেট দখল করেন ৷ জাদেজা পেয়েছেন ২ উইকেট ৷ আর শততম টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১ উইকেট পেলেন হরভজন সিংহ ৷ ।
 অশ্বিনের এই উত্থানের দিনে ভীষণ ভাবেই মলিন হয়ে থাকলেন ভারতের একদা অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনার হরভজন সিং। শততম টেস্টের প্রারম্ভিক স্মৃতি খুবএকটা মধুর হল না ভাজ্জির জন্য। চিপকের স্পিনিং ট্র্যাক, বিপক্ষে পছন্দের শিকার অস্ট্রেলিও ব্যাটিং স্কোয়াড, কোনটারই ফায়দা নিতে ব্যর্থ ভারতের সফলতম অফস্পিনার। শততম টেস্টের ২২গজেই যেন বেজে উঠল `তিনি বৃদ্ধ হলেন` -এর অমোঘ সত্যি।

গতকালই অশ্বিনকে সামলাতে কার্যত নাজেহাল হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রথমদিনই একাই ছয়জন অসি ব্যাটসম্যানকে প্যাভেলিয়ানে পাঠিয়েছিলেন তিনি। প্রথম দিন অসিদের ঝুলিতে সাত উইকেট খুইয়ে ৩১৬ রান ছিল।







Post Your Comment

Total Comments:1

abar agaya jayo...

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।